বিজেন্দ্র সিংহ, নয়াদিল্লি : সুখেন্দুশেখর রায়ের পর এবার সুস্মিতা দেব। রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূলের আরেক সাংসদ। ইতিমধ্যেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন অসমের তৃণমূল নেত্রী।
বিস্তারিত...
দিন দু'য়েক আগে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। সাংসদ হিসাবে তাঁর মেয়াদ ছিল ২০২৯ সাল পর্যন্ত। কিন্তু, তিনি রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন এবং পার্টির সব পদও ছেড়ে দেন।
তারপর থেকে জল্পনা ছিল, রাজ্যসভার আরও কয়েকজন সদস্য ইস্তফা দিতে পারেন। গতকালও তিনি এই মর্মে জানিয়েছিলেন। তারমধ্যে যে নামগুলো শোনা যাচ্ছিল তাতে কোয়েল মল্লিক, সুস্মিতা দেবের নাম ছিল। আরও কয়েকটা নাম পাওয়া যাচ্ছে। যারা হয়তো পদত্যাগ করবেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন সুস্মিতা। নিজেই দেখা করে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। তৃণমূলের সব পোস্ট থেকেও তিনি পদত্যাগ করেছেন। অসমে তৃণমূলের শাখা তাঁর নেতৃত্ব চলছিল। সেই পদও তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। তৃণমূল নেতৃত্বকে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।
অর্থাৎ, রাজ্যসভায় তৃণমূলের ১৩ জন সাংসদ ছিলেন। এরমধ্যে দুইজন ইস্তফা দিয়ে দিলেন। এখন ১১ জন সাংসদ রয়েছেন।
রাজপাট নেই। দল নেই। বিশ্বস্তরা নেই। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের রাজনৈতিক পুঁজি বলতে আর কী আছে ? মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় যেদিন দিল্লিতে, সেদিনই ভাঙন ধরে তৃণমূলের লোকসভা ও রাজ্য়সভার সংসদীয় দলে। দল ও রাজ্যসভার সাংসদের পদ থেকে ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়। তিনি বলেন, "আমি সময় এবং সুযোগের জন্য় অপেক্ষা করছিলাম। আমি জানতাম যে এটা ঘটবে। এই দল মানুষ থেকে পুরো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই দলে তো কোনও আদর্শ কখনও ছিল না, কর্মসূচি ছিল। নির্বাচনের এক মাসের মধ্য়ে, ভোটের ফলাফল প্রকাশের এক মাসের মধ্য়ে যদি ৮০ জন নির্বাচিত তৃণমূল সদস্য়দের মধ্য়ে বিধানসভায় ৬০ জন, তাঁরা আলাদা ব্লক তৈরি করেন, তো তার মানেটা কী ?" প্রসঙ্গত, আর জি কর মেডিক্য়াল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলে শীর্ষ নেতৃত্বের রোষানলে পড়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়।
রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেছিলেন, "রাজনৈতিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেস রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নীতি মেনে, নির্দিষ্টভাবে শেষের দিকে চলে যাচ্ছে। আর বেশি বাকি নেই।"
