কলকাতা : সই জালিয়াতিকাণ্ডে 'কালীঘাট তৃণমূল' ও 'ঋতব্রত তৃণমূল'-এর মধ্যে চাপানউতোর শুরু হল। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, অধ্যক্ষের কাছে যারা অভিযোগ করেছেন, তারাই জাল সই করেছেন। তদন্তে সত্য সামনে আসবে, পাল্টা বলেছেন অভিযোগকারী বিধায়ক সন্দীপন সাহা। সূত্রের খবর, শনিবার CID-র হাতে একটি রেজোলিউশন বুক তুলে দেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেটিই আসল কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, রেজোলিউশন বুক তাঁর বাড়িতে কী করে এল, তা নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলেছেন সন্দীপন সাহা। 

Continues below advertisement

বিধানসভায় সই জালিয়াতিকাণ্ডে এবার 'কালীঘাট তৃণমূল' ও 'ঋতব্রত তৃণমূল'-এর মধ্যে চাপানউতোর শুরু হল। শনিবারই এই মামলার তদন্তে বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায় CID। সূত্রের দাবি, রাজ্যের গোয়েন্দাদের হাতে একটি রেজোলিউশন কপি তুলে দেন তিনি। সই জালিয়াতিকাণ্ডের তদন্তে নেমে এই রেজোলিউশন বুকের খোঁজই চালাচ্ছিলেন রাজ্যের গোয়েন্দারা। একাধিক বিধায়কের সঙ্গে কথা বলা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দু'বার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ, কুণাল ঘোষের মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে শুরু করে আসল রেজোলিউশন বুকের খোঁজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি লাগোয়া পার্টি অফিসেও তল্লাশি চালিয়েছেন CID আধিকারিকরা। কিন্তু তখন কোনও রেজোলিউশন বুক তাদের হাতে আসেনি। 

এই প্রেক্ষাপটেই শনিবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান CID-র তদন্তকারীরা। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় শনিবার CID-র হাতে একটি রেজোলিউশন বুক তুলে দিয়েছেন। তবে CID-র দাবি সেটিই আসল রেজোলিউশন বুক কিনা সেটা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে আরেকটি কথা বলে রাখা ভাল, ইতিমধ্যে তিন জন বিধায়ক আদালতের সামনে নিজেদের সইয়ের নমুনা দিয়েছেন। এখন তাঁদের সই নকল করা হয়েছিল কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখতে আসল রেজোলিউশন বুকটি দরকার। 

Continues below advertisement

এই প্রসঙ্গে এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেছেন, 'রেজোলিউশন বুক শোভনদেববাবুর বাড়িতে কেন? ওঁর বাড়িটা তো পার্টি অফিস নয়। তার মানে যেদিন CID গিয়েছিল কালীঘাটের বাড়িতে, যেখানে মিটিংটি হয়েছে, সেখান থেকে রেজোলিউশন বুকটা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এটাই তো অর্থ দাঁড়ায়। যদি সবকিছু পরিষ্কার থাকে, পরিচ্ছন্ন থাকে, তাহলে নথিপত্র সরাবার প্রয়োজনটা কেন আসছে?' 

একদিকে যেমন তদন্ত চলছে। অন্যদিকে তেমন দোষারোপের পালা শুরু হয়েছে 'কালীঘাট তৃণমূল' ও 'ঋতব্রত তৃণমূল'-এর মধ্যে। শনিবার সই জালিয়াতিকাণ্ডের নেপথ্যে 'ঋতব্রত তৃণমূল'কে দায়ী করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলছেন, 'অবিশ্বাসের জায়গায় ছিল না কেউই, আমরা সকলকেই বিশ্বাস করে বৈঠকে ডেকেছিলাম। কারা করে দিয়ে গেছে, যারা তাড়াতাড়ি সরে গেছে। জাল সইটা করে দিয়েই চলে গেছেন সোজাসুজি স্পিকারের কাছে।'