অর্ণব মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : কারখানা থেকে রোজ ব্যারেল ব্যারেল জল পৌঁছে যায় স্থানীয় মানুষের বাড়িতে, দোকানে , অফিসে। আর সেই জলকে পরিশ্রুত জল বা মিনারেল ওয়াটার ভেবে নিশ্চিন্তে খেয়ে যাচ্ছেন মানুষ। অথচ কোনও অনুমোদন ছাড়াই, কোনও ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই রমরমিয়ে পানীয় জলের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তপসিয়ার জলের কারখানাটি। পুরসভার অভিযানে সামনে এল চাঞ্চল্যকর ছবি।
পুজোর আগে থেকেই সারা কলকাতার বিভিন্ন ফুড জয়েন্ট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, মিষ্টির দোকানে অভিযান চালাচ্ছে কলকাতা পুরসভা ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। এবার মিনারেল ওয়াটারের কারখানায় চলল অভিযান । সেখানে গিয়ে দেখা যায়,কোনও শোধনের বিষয়ই নেই, সাধারণ জল সংগ্রহ করে ২০ লিটারের জারে ভরে বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করা হচ্ছে। কারখানার কর্মীদের প্রশ্ন করতে তাদের বেমালুম জবাব, তাদের কোনও ট্রেড লাইসেন্স নেই, জলের গুণমান পরীক্ষার কোনও নথি নেই, ব্র্যান্ড নেম ব্যবহার করারও কোনও আইনি অনুমোদন নেই। অথচ বছরের পর বছর এলাকার বাসিন্ডাদের ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে ওই জল, একেবারে সাধারণ 'কলের জল'। পুরসভার এই অভিযানের পর এলাকার প্রতিটি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই একাধিক কারখানায় জলের ব্যবসা চলছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তপসিয়ার বিভিন্ন পানীয় জলের কারখানায় যৌথ অভিযান চালান পুরসভা ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা। কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় প্যাকেজজাত পানীয় জলের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। সেই সুযোগ নিয়েই কি বাড়ছে এমন অসাধু ব্যবসা? তাহলে কাকে ভরসা করবে সাধারণ মানুষ ? প্রশ্ন এখন সেটাই।
মানুষের পাতে কি অখাদ্য়? সেই খোঁজ নিতেই গত কয়েক মাস ধরে চলছে এমন অভিযান। নিউ মার্কেট, গড়িয়াহাট। বাঙালির দুই প্রিয় শপিং ডেস্টিনেশনের রেস্তোরাঁ, দোকানে হানা দিয়েছে পুরসভার খাদ্য় সুরক্ষা বিভাগ। কোথাও ফেলে দিয়েছেন বাসি খাবার, কোথাও আবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। কয়েকদিন আগেই শিয়ালদা স্টেশন চত্বরে বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালায় কলকাতা পুরসভার খাদ্য় সুরক্ষা দফতর। সকাল থেকেই বিভিন্ন দোকানে যায় তাদের টিম। অভিযোগ, এর মধ্য়েই একটি ভাজাভুজির দোকানে গিয়ে তরকারি ও সিঙাড়ায় নিম্নমানের হলুদ ব্য়বহার লক্ষ করেন তাঁরা। সেগুলি ফেলে দেওয়া হয়। অন্য়দিকে, বাবুর দোকান নামে একটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, মজুত করা রয়েছে মাছ, মাংস। এমনকী যে মশলা দিয়ে রান্না হচ্ছে, সেগুলি নিম্ন মানের, এরপর সেগুলিকেও ফেলে দেন টিমের সদস্য়রা।
