কলকাতা: তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়ে ইতিমধ্যেই ২০ জন সাংসদ মিশে গিয়েছেন এনসিপিআই-এর সঙ্গে। এই অবস্থায় কি আরও দুর্বল হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল? এবার সেই জল্পনাই উস্কে দিয়েছেন 'বিদ্রোহী' সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি বলছেন, অনেকেই আছেন যাঁরা বড় নেতা সাজছেন, অনেকেই কংগ্রেসের দিকে হাত বাড়াচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে আরও কোনও সমীকরণ তৈরি হয় কি না, সে দিকেই তাকিয়ে বিশেষজ্ঞমহল।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: 'উনি কি কারও সঙ্গে যোগাযোগে আছেন, যাঁরা ওঁকে ওই টাকাটা দেবে বলেছে?' মহুয়া প্রসঙ্গে কটাক্ষ কাকলির

তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদ ছিল লোকসভায়। এর মধ্যে ২০ জন মিশে গিয়েছেন এনসিপিআইয়ের সঙ্গে। এবার বাকি ৮ জন, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলে রয়ে গিয়েছেন, তাঁদের নিয়েই তৈরি হয়েছে জল্পনা। এবার কি তাঁদের মধ্যেও ভাঙন ধরতে চলেছে?

Continues below advertisement

শতাব্দী রায়ের বক্তব্য সত্যি হলে 'কালীঘাট' তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা আগামী দিনে আরও কমতে পারে। তাঁর বন্তব্য অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায় সহ ৮ জনের মধ্যে কেউ কেউ যোগাযোগ রাখছেন কংগ্রেসের সঙ্গে আবার কেউ কেউ নাকি মন্ত্রীত্বের জন্য যোগাযোগ রাখছেন বিজেপির সঙ্গে।

আরও পড়ুন: সেপটিসেমিয়ায় মৃত্যু হল ‘মোগলি গার্ল’-এর, লড়াই শেষ মাত্র ১৮ বছর বয়সেই

এমনিতেই রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন ৩ জন তৃণমূল সাংসদ। এর মধ্যে রয়েছেন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বড়াইক। আর তারপর শতাব্দী রায়ের এই বক্তব্য তৃণমূলের ভাঙনের জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।

শতাব্দী রায় বলেন, "কংগ্রেসের পিছনে কতজন ঘুরছে সেটাও জানা দরকার। যাঁরা বড় বড় নেতা সাজছেন এখন, যাঁরা আড়ালে এত নিন্দে করত, যাঁরা আড়ালে নেত্রীকে গালাগালি করত, অভিষেককে গালাগালি করত, তাঁরা হঠাৎ বলছে। আমরা তো বলছি না এই সব কথাগুলো। হ্যাঁ, যতদিন দলে ছিলাম, দলের হয় লড়াটাই কাজ। এরা তো দলের সঙ্গে যখন থাকত, কত গালাগালি করত পার্লামেন্টে। এ তো আমরা সবাই জানি। জানি না নাকি আমরা?"

তৃণমূলের বাকি ৮ জন সাংসদের মধ্যে যাঁরা ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁদেরকেও নিশানা করেছেন সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি বলেন, "যাঁরা ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছে, তাঁদের মধ্যেও আছে, যাঁরা মন্ত্রীত্ব চেয়ে দল বদলানোর জন্য পা উঠিয়ে আছে। সিনিয়র সাংসদও আছে এমন।"