কলকাতা: ক্ষমতা হারানো তৃণমূল কি এবার খানখান হওয়ার পথে? কারণ চৌঠা মে-র পর থেকে তৃণমূলের অন্দরে শুধুই বিদ্রোহ। এমনকী, খোদ মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ডাকা বৈঠকে ক্রমশ কমছে বিধায়কদের হাজিরার সংখ্যা। উলুবেড়িয়া পূর্বর বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় বলেন, 'তৃণমূল পার্টিটা প্রায় উঠে যাওয়ার পথে, উঠে যাবে। থাকবে না।' 

Continues below advertisement

তৃণমূলের পরিষদীয় দলের ভাঙন কি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা? ক্ষমতা হারানো তৃণমূল কি এবার খানখান হয়ে যাবে? দলের রাশ কি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হাতের বাইরে চলে গেছে? এই প্রশ্নগুলোই এখন ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। কারণ চৌঠা মে-র পর থেকে তৃণমূলের ওপর থেকে নীচ--- সর্বত্র শুধু বিদ্রোহ। সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলর--- কেউ বাদ নেই। কেউ তৃণমূলের মাথা বদলানোর দাবি করছেন। কেউ ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে পদ ছাড়ছেন।

বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, 'এই যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বস্তরে নিশ্চয়ই কিছু বলার প্রয়োজন আছে।' কেউ প্রকাশ্যে দলের জালিয়াতির পর্দাফাঁস করে দিচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক বলেন, 'অন্যায় করবে দল আর তার দায় নেব আমরা? কেন কীসের জন্য?'   

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, আজ থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ হবে অনলাইনে, কেন এত পাতার ফর্ম? মুখ্যমন্ত্রী জানালেন...

ভরাডুবির পর তৃণমূলে শুধুই ক্ষয় আর ক্ষয়। এমনকী, খোদ মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ডাকা বৈঠকে ক্রমশ কমছে বিধায়কদের হাজিরার সংখ্যা। ফল ঘোষণার পর ৬ মে, কালীঘাটের বাড়িতে তৃণমূলনেত্রী যে বৈঠক ডেকেছিলেন, সেখানে জয়ী ৮০ জনের মধ্য়ে উপস্থিত ছিলেন ৭১ জন। ১৯ মে, দ্বিতীয় বৈঠকে, সেই সংখ্য়াটাই নেমে আসে ৬৫-তে। আর ৩১ মে, তা একেবারে তলানিতে গিয়ে দাঁড়াল ২০-তে। 

বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় বলেন, 'এই দুর্নীতি নিয়ে একটা ফোর্স চলতে পারে না। চলবে না। মিলিয়ে নেবেন, এ পার্টি থাকবে না। দল থাকবে না, এটা আমি নিশ্চিত। আমি কেন, অনেক প্রবীণ সাংসদও বলেছেন, দল থাকবে না।' 

তবে তৃণমূল নেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'তৃণমূল কংগ্রেসটাকে আপনারা ভাঙতে চান? যতই ভাঙার চেষ্টা করবেন এটা আরও শক্তিশালী হবে'।

দেড় দশক ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূল কী কী করেছে, তার ফাইল এবার একে একে খুলছে। কিনতু, ফাইল খুলতে খুলতে তৃণমূলের নামটা কি স্রেফ ফাইলেই থেকে যাবে? দল কি উবে যাবে?