কল্যাণী: আজ ২৬ মে, কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। আর এই বৈঠকে হাজির তৃণমূল বিধায়ক কাকলী ঘোষ দস্তিদার। এ ছাড়াও এসেছেন তৃণমূলের তিন বিধায়ক; স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল, দেগঙ্গার আনিসুর রহমান ও হাড়োয়ার আবদুল মাতিন। যদিও গত কয়েক বছরে, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে এই ছবি একেবারেই দেখা যায়নি।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: পথচারীকে ধাক্কা, গ্রেফতার হলেন খুনে অভিযুক্ত 'পলাতক' অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন

গত ১৫ বছরে এই ছবি একেবারেই দেখা যায়নি। কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের কোনও শুধু সাংসদ বা বিধায়ক নয়, কোনও কাউন্সিলরকেও কোনও বৈঠকে ডাকা হতো না। কিন্তু এই ধরনের প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক স্তরের নেতারাও আমন্ত্রিত হতেন। বিভিন্ন কমিটির যাঁরা মাথা, তাঁরাও আমন্ত্রিত হতেন। কিন্তু বিরোধী বিধায়ক বা সাংসদদের ডাকা হত না।

Continues below advertisement

দিনের পর দিন বিধানসভায় দাবি উঠেছে বিরোধীদের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয় নিয়ে। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বারে বারে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যে কেন কোনও বিরোধী দলের জন প্রতিনিধিকে ডাকা হয় না প্রশাসনিক বৈঠকে। যদিও এই বিষয়ে কোনও উত্তর দেননি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। একাধিক মন্ত্রী যদিও মন্তব্য করতেন, যাঁরা উন্নয়ন চান, তাঁদেরই ডাকা হয়েছে বৈঠকে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ছবিটা বদলে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিধায়কদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, সকলকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে হবে।

আরও পড়ুন: 'এদেরকে গ্যারেজ করা হবে', প্রশান্ত বর্মন প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বললেন, অনেক অফিসার বিগড়ে গিয়েছেন!

এ ছাড়াও পূর্বতন সরকারের এই ধরনের প্রশাসনিক বৈঠকের সঙ্গে বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকের আরও একটা পার্থক্য রয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমলে যে সব এই ধরনের বৈঠকগুলো হত, সেখানে প্রাচুর্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশাল প্যান্ডেল তৈরি করা হত। সেখানে নানা স্তরের প্রশাসনিক কর্তাদের ডাকা হত। তৃণমূল বিধায়কদের ডাকা হত। তাঁরা এসে সেখানে মিটিং করতেন। সব মিলিয়ে এক এলাহি আয়োজন হত।

কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দেন, প্রশাসনিক বৈঠকে কোনও রকম ভাবেই কোনও বাড়তি খরচ করা যাবে না। আর সেই কারণেই কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে সেই প্রশাসনিক বৈঠক চলছে। সামান্য কিছু আয়োজন, আর তার মধ্যেই চলছে বৈঠক।