প্রসেনজিৎ, আগরতলা : বাংলাদেশে ভারতবিদ্বেষের পারদ যত চড়ছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে ত্রিপুরা সীমান্তে। গত পাঁচ মাসে শুধুমাত্র আগরতলা রেল স্টেশন থেকে ১০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী সহ প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশী নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এরা সকলেই অনুপ্রবেশকারী। অধিকাংশই জাল ভারতীয় পরিচয় পত্র বানিয়ে কলকাতা কিম্বা দিল্লি যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এবার ত্রিপুরায় দানা বাঁধছে নতুন উদ্বেগ।
ত্রিপুরা সীমান্তে জিরো পয়েন্টের গা ঘেঁষে বাঁধ তৈরি করছে বাংলাদেশ। ঊনকোটি জেলার দেবীপুর সীমান্তে জিরো পয়েন্ট লাগোয়া বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার আলিনগরে ৩ কিলোমিটার বাঁধ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর ফলে বন্য়ায় ভাসবে ত্রিপুরার কৈলাশহর। সম্প্রতি ত্রিপুরা বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে বাংলাদেশে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন কংগ্রেস বিধায়ক বীরজিৎ সিংহ। গতকাল রাঙাউটি গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবীপুর সীমান্ত পরিদর্শনে যান ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ছাড়াই এই বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে জেলাশাসক জানিয়েছেন।
দিনকয়েক আগেই ত্রিপুরায় ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে, এদেশের ৩ শ্রমিককে বাংলাদেশে ধরে নিয়ে গিয়ে অত্য়াচারের অভিযোগ ওঠে। প্রথমে থানায় নিয়ে গিয়ে হেনস্থা, এরপর গভীর রাতে ৩ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি। কনকনে ঠান্ডায় জঙ্গলে রাত কাটান ৩ জন। সকালে BSF-এর তৎপরতায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এবার কোনও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ছাড়াই ত্রিপুরা সীমান্তে বাঁধ দেওয়া নিয়ে কি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কি কোনও পদক্ষেপ করবে বিএসএফ?
আরও পড়ুন : 'আপনার মেয়ে কিছুটা মারা গেছে' বলা হয়েছিল তাঁকে, বুকে দগদগে ক্ষত নিয়েই রায়ের অপেক্ষা মায়ের