রঞ্জিত সাউ, বারুইপুর: বারুইপুরে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। প্রাণ কাড়ল দুই অল্প বয়সী যুবকের। বারুইপুর থেকে ফেরার পথে মর্মান্তিক এই পথ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চৌহাটি সংলগ্ন এলাকায় একটি স্কুলের সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা মারে একটি গাড়ি। তারপর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুজনের। আর রাখি পূর্ণিমার দিন এই দুর্ঘটনা এক বোনের থেকে তার ভাইকে কেড়ে নিল। ছিন্ন হয়ে গেল ভাই-বোনের সেই চেনা আবেগের মুহূর্ত। ময়নাতদন্তে নিয়ে যাওয়ার আগে দাদা সাগ্নিক সেনের হাতে শেষবার রাখি পরিয়ে দিলেন বোন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন উপস্থিত সকল এলাকাবাসী। দাদাকে শেষবারের মতো রাখি পরালেন সাগ্নিকের বোন। ভাইয়ের নিথর দেহের হাতে রাখি পরাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকের চোখেও জল চলে আসে।                আরও পড়ুন - বাইকে লরির ধাক্কা, মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ভিআইপি রোডে, উত্তপ্ত কেষ্টপুর

Continues below advertisement

বারুইপুর থেকে একটি গাড়িতে যাদবপুরের দিকে ফিরছিলেন পাঁচ যুবক। সোনারপুর থানার অন্তর্গত চৌহাটি সংলগ্ন এলাকায় একটি স্কুলের সামনে আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা মারে গাড়িটি। একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়িটি। গাড়িতে মোট পাঁচজন ছিলেন। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন তাঁরা। মৃতদের নাম সাগ্নিক সেন ও শৌনক ভট্টাচার্য। দু’জনেরই বাড়ি যাদবপুর এলাকায়। স্থানীয় সুত্রে খবর, গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল, যার কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনটি ঘটে যায়। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা, তদন্তে নেমেছে পুলিশ।                উল্লেখ্য, গত ২৫ তারিখ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছিল শহরের ব্যস্ততম রাস্তায়। কেষ্টপুরের এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল একজনের। পুলিশ সূত্রের খবর, মূলত অ্যাপ নির্ভর বাইকের সঙ্গে লরির ধাক্কা লাগে। আর তারপরেই যাত্রীর মৃত্য়ু হয় বলে খবর। গত কয়েক মাসে ফিরে তাকালে অসংখ্য দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে এই শহর তথা রাজ্য। মূলত কলকাতা পুলিশ তথা রাজ্য পুলিশ সর্বদাই গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সচেতনতার বার্তা দিয়ে থাকেন। তবে তার পরেও দুর্ঘটনা কমেনি। কারণ বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ট্রেন্ড দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর তাই দুর্ঘটনাতেও যবনিকা পড়ছে না।

Continues below advertisement