কলকাতা: বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবনের দুটি তলা দখলমুক্ত করল মালিক পক্ষ। তিন তলা ও চার তলা থেকে সব আসবাবপত্র বের করে দিয়ে সেখানে তালা ঝোলালেন মডার্ন ডেকরেটার্সের মালিক।

Continues below advertisement

ভোটে ভরাডুবি হয়েছে! দল খান খান হয়ে গেছে! এবার মমতাপন্থী তৃণমূলের মাথার ছাদ নিয়েও কার্যত টানাটানি শুরু হয়েছে! কলকাতায় ইএম বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবনের দুটি তলায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে মালিক পক্ষ। বাইপাসের ধারে এই বাড়িটিই গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল ভবন নামে পরিচিত। ভোটের আগে এখানে ঘনঘন যাতায়াত ছিল তৃণমূল নেতাদের।

এই বাড়িটি মডার্ন ডেকরেটার্সের মালিক মন্টু সাহার। তাঁর দাবি, করোনার সময় এক বছরের জন্য এই বাড়িটি ভাড়া নেয় তৃণমূল। ২০২২ থেকে ২০২৩, এই এক বছরের জন্য চুক্তি হয়। বলা হয়, নতুন তৃণমূল ভবন তৈরি হয়ে গেলেই এই বাড়িটি তারা ছেড়ে দেবেন। পরে সেই চুক্তির মেয়াদ বাড়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। অভিযোগ, তারপর প্রায় দেড় বছর কেটে গেলেও এখনও বাড়ি ফেরত পাননি তাঁরা। বাড়ি ফেরত পেতে ইতিমধ্যে প্রগতি ময়দান থানার দ্বারস্থ হয়েছে মালিক পক্ষ। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের সঙ্গে তিন তলা ও চার তলা ভাড়া দেওয়ার কোনও চুক্তি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে, মঙ্গলবার এই দুটি তলা থেকে সব আসবাবপত্র বের করে দিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেয় মডার্ন ডেকরেটার্স কর্তৃপক্ষ। এদিকে তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেছেন, '২০২৭-এর অক্টোবর পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে। কাগজ থানায় পাঠিয়েছি। যেটা দখলমুক্ত করেছে সেখানে আমরা দখলই করিনি। দুটো চেয়ার টেবিল ছিল হয়ত।' দিল্লিতেও 'ঘরছাড়া' হতে হয়েছে মমতা-পন্থী তৃণমূলকে। বিদ্রোহী সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বাংলো থেকে অফিস সরাতে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। কলকাতাতেও তাদের মাথাব্য়থা বাড়ছে। 

Continues below advertisement

তৃণমূলের পার্টি অফিসে আধার কার্ডরাজ্যে পালাবদল হওয়ার পর তৃণমূলের অনেক পার্টি অফিসে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন পার্টি অফিস থেকে ত্রাণ সামগ্রী থেকে শুরু করে নানা জিনিস উদ্ধার হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে তৃণমূলের পার্টি অফিসে রাশি রাশি আধার কার্ড পাওয়া গেল। তৃণমূলের অফিসে মিলল প্রচুর জব কার্ড। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকে থুমকাটিতে উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল কার্যালয়ের পাশেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে তৃণমূল নেতার বাড়িতে চড়াও হয় স্থানীয়রা। ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকে থুমকাটির পাশেই পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার প্রচুর আধার কার্ড, জব কার্ড সহ একাধিক সাদা থান। এলাকার মানুষের থেকে কাটমানি নিতেন এই ব্যক্তি।