বিটন চক্রবর্তী, তমলুক : পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তম বারিক। মেদিনীপুরের ডিভিশনাল কমিশনারের অফিসে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন উত্তম বারিক।

Continues below advertisement

বিস্তারিত...

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উল্লেখ করেন, রাজ্যে পরিবর্তন হয়েছে । নতুন সরকার এসেছে বিপুল জনাদেশ নিয়ে। সেই জনাদেশকে মান্যতা দিয়ে তিনি চান না এই পদে থাকতে। সেইজন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন। বিষয়টি স্বভাবতই খুবই উল্লেখযোগ্য। কারণ, ২০১১ সালে রাজ্যে পালবদলের আগেই ২০০৯ সালেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে পালাবদল ঘটেছিল। তারপর থেকে তৃণমূলই এই জেলা পরিষদ পরিচালনা করে আসছিল। রাজ্যে পুনরায় পালবদল হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিজেপি সরকার। এই পর পটাশপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ও জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিকের পদত্যাগ যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ। এনিয়ে বিজেপির বক্তব্য, দেরিতে হলেও যে তাঁর বোধোদয় হয়েছে তারজন্য সাধুবাদ।  

Continues below advertisement

প্রসঙ্গত, কাজ করতে না পারার অভিযোগ তুলে, বিধাননগরের মেয়র পদে ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। মেয়রের পদে ইস্তফা দিলেও কাউন্সিলর হিসাবে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্ষার ঠিক আগেই ছাড়তে হল ? প্রশ্ন তুলেছেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী।

কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের জল্পনার মধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন বিধাননগরের মেয়র। কাজ করতে না পারার অভিযোগ তুলে, বৃহস্পতিবার, বিধাননগরের মেয়র পদে ইস্তফা দেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। মেয়রের পদে ইস্তফা দিলেও কাউন্সিলর হিসাবে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। দু-দিন আগে ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেখানে যে হাতেগোনা তৃণমূলের নেতা-নেত্রী উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার, সেই কৃষ্ণা চক্রবর্তীই পুর-কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়ে বিধাননগরের মেয়রের পদ ছাড়লেন। চিঠির প্রতিলিপি দিয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবকে।

চিঠিতে ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগের কথা বললেও, পরে কাজ করতে না পারার অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, "আসছেন না কাউন্সিলররা, বসে থাকছি, অফিসারদেরও ব্যস্ততা, একটা বোর্ড মিটিং হচ্ছে না, একটা MIC হচ্ছে না, সেই সমস্ত কারণে, মানুষের পরিষেবা দেওয়া যেখানে আমার দায়িত্ব, সেটা আমি ঠিক মতো দিতে পারছি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মায়ের সমান, আর পারলাম না। মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারব না, কর্পোরেশনের দৈনন্দিন কাজ থাকে, সেটা থেমে গেছে। মানুষের কাছে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম তাঁদের পরিষেবা পরিপূর্ণভাবে দেওয়ার।"