রাজীব চৌধুরী, জঙ্গিপুর: সংশোধিত ওয়াকফ আইনের (Waqf Law 2025) প্রতিবাদে বিক্ষোভ ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল জঙ্গিপুর। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগাল আন্দোলনকারীরা। পুলিশের অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য ও জমিয়তে উলেমা-এ-হিন্দ-এর রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর। 

রণক্ষেত্র হয়ে উঠল জঙ্গিপুর: গত সপ্তাহেই লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হয়েছে ওয়াকফ সংশোধনী বিল, ২০২৫। রাষ্ট্রপতি সই করার পর আইনে পরিণত হয়েছে সংশোধনী বিল। মঙ্গলবার জঙ্গিপুরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর শুরু হয় সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদ। ওমরপুরে বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ করে ওয়াকফ বিল বিরোধী প্রতিবাদী মঞ্চ। অবরোধ হঠাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পুলিশকে লক্ষ্য করে শুরু হয় ইটবৃষ্টি। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে, টিয়ারগ্যাসের সেল ফাটায় পুলিশ।তারপরই পরিস্থিতি রক্ষক্ষেত্র হয়ে ওঠে। পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই মন্ত্রিসভার সদস্য সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।                                     

ক্ষোভ প্রকাশ মন্ত্রীর: জমিয়তে উলেমা-এ-হিন্দ-এর রাজ্য সভাপতি তথা গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর বলেন, "সিপিএমের জমানায়ও হয়নি। সিপিএমের পুলিশ কিন্তু আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করেনি। এটা সত্য কথা আমরা সুযোগই দিইনি। বহু সভা করেছি, তো পুলিশকে লাঠিচার্জ কেন করতে হল, আমি জানি না, যারাই আন্দোলন করবেন, হিংসাত্মক আন্দোলন করলে ফেল হয়ে যাবেন। আমরা হিংসা চাই না, হিংসাত্মক হলে আমরা আটকে যাব, ক্ষতিগ্রস্ত হব।''

অশান্তির প্রেক্ষিতে, মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ ও সুতি থানা এলাকায়, মঙ্গলবার সন্ধে ৬টা থেকে, ৪৮ ঘণ্টার জন্য় BNS-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। জঙ্গিপুর মহকুমায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে রাজ্য় পুলিশের তরফে পোস্ট করে জানানো হয়েছে, জঙ্গিপুরে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছিল, তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক। যারা হিংসা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্য়বস্থা নেওয়া হবে। যারা গুজব এবং বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সবাইকে অনুরোধ, গুজব ছড়াবেন না। শান্ত থাকুন।