কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা: রাজ্যে কলেজে ভর্তির সিংহভাগ আসনই ফাঁকা। স্নাতকে ভর্তিতে গতকাল ছিল আবেদনের শেষদিন। সন্ধে পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার পড়ুয়ার আবেদন করেছেন। এদিকে স্নাতকে শূন্য আসনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ। অর্থাৎ কলেজে ভর্তিতে প্রায় ৬ লক্ষ আসনই ফাঁকা রয়েছে। কবে ভর্তি শুরু হবে তা এখনও অস্পষ্ট। আগামী ৭ অগাস্ট প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে।
উচ্চমাধ্যমিক ও তার সমতুল্য পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে প্রায় দু থেকে তিন মাস আগে। এপ্রিল মাসে ফল বেরিয়েছে ISC-র। মে মাসে প্রকাশিত হয়েছে উচ্চমাধ্যমিকের ফলও। CBSE-র দ্বাদশ শ্রেণির ফল প্রকাশ হয়েছে আড়াই মাস আগে। কিন্তু রাজ্যের পড়ুয়ারা দ্বাদশ উত্তীর্ণ হলেও এখন শুরুই করতে পারলেন না জেনারেল কোর্সের পঠনপাঠন। ফল প্রকাশের এতগুলো দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও স্পষ্ট নয় কবে থেকে শুরু হবে ভর্তি। ক্রমেই আশঙ্কা বাড়ছে শিক্ষামহলের অন্দরে। কবে ভর্তি শুরু হবে তা নিয়ে চিন্তায় লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ারা। দ্বাদশ পাস করে কলেজে যাওয়ার অপেক্ষায় তাঁরা। গত ১৭ জুন খুলেছে কলেজে ভর্তির পোর্টাল। কলেজে ভর্তির জন্য গতবছর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তির পোর্টাল খুলেছে সরকার। এই পোর্টাল খোলা নিয়েও হয় বিস্তর টানাপোড়েন। কিন্তু প্রথম দফায় ভর্তির আবেদনের জন্য এক মাসের বেশি সময় দেওয়া হলেও, সিংহভাগ আসনই থেকে গেল ফাঁকা।
প্রথম পর্যায়ের আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়েছে বুধবার। স্বাভাবিক যে আবেদন প্রক্রিয়া, তারপরও তিন তিন বার আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তারপরও দেখা যাচ্ছে বুধবার সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ১১৪ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন। একজন সর্বোচ্চ ২৫টি বিষয়ে আবেদন করতে পারেন। শিক্ষামন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, পোর্টালে জাতিগত অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। প্রথম মেধাতালিকা ৭ অগাস্ট প্রকাশিত হবে। কিন্তু কবে থেকে কলেজে ভর্তি হতে পারবেন পড়ুয়ারা তা এখনও অস্পষ্ট। রাজ্যে স্নাতক স্তরে সাড়ে ৯ লক্ষ আসন। কিন্তু আবেদনের শেষে দেখা গেল সিংহভাগ আসনই ফাঁকা থেকে যাচ্ছে।
এদিকে পরীক্ষার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও প্রকাশিত হয়নি রাজ্য জয়েন্টের ফল। যার জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। এই আবহে আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড। মনে করা হচ্ছে কবে রেজাল্ট বেরোবে সেই সম্পর্কে আভাস পাওয়া যাবে। সূত্রের খবর, সংরক্ষণ বিধির বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে একটা নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে এই সংরক্ষণ বিধির বিষয়ে।