কলকাতা : সপ্তাহের মাঝামাঝি হঠাৎ  তুষারপাত! ক্যালেন্ডার বলছে, শীত আসতে ঢের দেরি। অথচ  হিমাচল প্রদেশ থেকে কাশ্মীর, উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা ঢাকল পাতলা সাদা চাদরে।  মরসুমের প্রথম এই তুষাপাতে হঠাৎ করেই খুশির হাওয়া উপত্যকায়। পর্যটকদের কাছে যেন মেঘ না চাইতেই জল। 

Continues below advertisement

হঠাৎ এই তুষারপাত যেন শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে হাজির। সাধারণত এই সময়টা তুষারপাতের মরসুম নয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার আচমকাই তুষারপাতে বদলে গেল পাহাড়ি এলাকার চেনা ছবিটা । কাশ্মীরের গুলমার্গ থেকে হিমাচল প্রদেশের সিমলা,  ঝিরিঝিরি থেকে ঝমঝমে বৃষ্টিতে ভিজছে দিন কয়েক ধরে। সঙ্গী হল তুষারপাত।  পর্যটকদের কাছে এই আকস্মিক তুষারপাত নিঃসন্দেহে এক মনোরম অভিজ্ঞতা। পাহাড়ে তুষার পাতের সঙ্গে সঙ্গেই কমল তাপমাত্রা। অনেকটাই ।   শীতের আমেজে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় মানুষজনও। 

উত্তর কাশ্মীরের বান্দিপোরা জেলার সীমান্তবর্তী তুলাইল উপত্যকা এবং কাশ্মীরের কাবুলি গলিতেও তুষারপাত হয়েছে। পাশাপাশি শ্রীনগর এবং কাশ্মীর উপত্যকার অন্যান্য অংশে রাতভর হয়েছে বৃষ্টি। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হবে। তবে  শুক্রবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমার কথা।  তুষারপাতেরও পূর্বাভাস রয়েছে। অন্যদিকে, হিমাচল প্রদেশের উঁচু এলাকাগুলিতেও হালকা তুষারপাত হয়েছে। পাহাড়ি রাজ্যের বেশিরভাগ অংশে চলছে বৃষ্টি। হঠাৎ করেই কমেছে তাপমাত্রা। কুল্লু, জিভা এবং রোটাং পাস এলাকায় হালকা তুষারপাতের খবর পাওয়া গিয়েছে। সিমলা শহরেও বিভিন্ন জায়গায় চলছে বৃষ্টি। আবহবিদদের ধারণা, এই তুষারপাত আসলে শীতের আগমনী। ভারতে শুরু হল ঋতু পরিবর্তনের প্রক্রিয়া।

Continues below advertisement

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে বিদায় নিতে শুরু করবে। উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে শুরু হবে বর্ষা বিদায়ের পর্ব শুরু হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য অংশ থেকেও বর্ষা বিদায় নেবে সময় অনুসারে, ধাপে ধাপে। বর্ষা বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর ভারতের আবহাওয়ায় পরিবর্তন শুরু হতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ পার্বত্য এলাকাগুলিতে তাপমাত্রা কমা শুরু হবে এবার। আস্তে আস্তে পাহাড়ে শীতের আগমন স্পষ্ট  হবে।   তবে হঠাৎ করে পাহাড়ি অঞ্চলে মরসুমের প্রথম তুষারপাত নিঃসন্দেহে আনন্দের। সেই সঙ্গে   আবহবিদদের কাছেও এটি ঋতু পরিবর্তনের ইঙ্গিত।                       

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মহালয়া থেকে পঞ্চমীর মধ্যেই রাজ্য থেকে বর্ষার প্রভাব চলে যেতে পারে। তবে অন্যান্য আবহাওয়া পরিস্থিতির উপরও বিষয়টা নির্ভরশীল। তাই অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্তও চলতে পারে বর্ষণ।