পুজোর মরশুম শেষ হতে না হতেই বঙ্গোপসাগরে নতুন করে ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। আন্দামান সাগরের উত্তর-মধ্য অংশে বর্তমানে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে সিস্টেমটি। এরপরে পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে সিস্টেমটি। শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়েও পরিণত হতে পারে। এমনই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা Weather Ultima।  ২২ অক্টোবরের বুলেটিন অনুসারে , তাইল্যান্ড উপসাগর ও তাইল্যান্ডের উপর দিয়ে অগ্রসর হয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় সিস্টেমটি আন্দামান সাগরে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে এটি উত্তর-মধ্য আন্দামান সাগরের উপর রয়েছে। 

Continues below advertisement

 ২২ থেকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করে দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন মধ্য-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ২৪ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সেটি মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হতে পারে।  সিস্টেমটির সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। প্রাথমিক বিশ্লেষণে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার পরবর্তী পর্যায়ে গতিপথ বদলে আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে, পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলের দিকে এগোনোর সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।  আবহাওয়া দফতর বলছে, ২২ থেকে ২৩ অক্টোবরের মধ্যে নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। ২৩ থেকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সেটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ২৪ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপ বা ডিপ্রেশনের পর্যায়ে পৌঁছতে পারে সিস্টেমটি।   

তবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে। এই সময়ে টানা বৃষ্টি চলতে পারে। বাড়তে পারে দুর্যোগ। আববিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার পরামর্শ, আগামী ৪৮–৭২ ঘণ্টার মধ্যে পর্যটক ও উপকূল এলাকার বাসিন্দারা পোর্ট ব্লেয়ারের দিকে সরে এলে ভাল।  এই সময় পর্যটকদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। 

Continues below advertisement

২৫ অক্টোবর থেকে সিস্টেমটি  ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে । অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে শক্তি আরও বাড়তে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পড়বে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সিস্টেমটি কোন দিকে এগোবে, কতটা শক্তিশালী হবে এবং উপকূলে পৌঁছনোর আগে তার গতিপথে কোনও পরিবর্তন হবে কি না, তার উপর নির্ভর করবে সম্ভাব্য প্রভাব।