নয়াদিল্লি: দোরগোড়ায় নভেম্বর, কড়া নাড়ছে শীত। এরই মধ্যে তুষারপাত লাদাখের জোজিলা পাস ও মিনামার্গে। বরফে ঢেকেছে রাস্তাঘাট, যানবাহন। শ্রীনগর-কার্গিল-লে-লাদাখ জাতীয় সড়ক জুড়ে চলছে শীতল দমকা বাতাস। প্রবল তুষারপাতে ওই এলাকার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা। প্রশাসনের তরফে সতর্ক করা হয়েছে নিত্যযাত্রীদের। 

Continues below advertisement

 আরও পড়ুন, "MLA হলে কি গ্রেফতার হতেন ?" ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারিতে বড় প্রশ্ন শতরূপের, কী প্রতিক্রিয়া সুজনের ?

একদিকে যখন লাদাখে তুষারপাত, ঠিক তখনই প্রকৃতির অন্যরূপ দেখল ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ। প্রসঙ্গত, ঝড়ের দুরন্ত ঘূর্ণি। প্রকৃতির রুদ্র-রূপ দেখল অন্ধ্রপ্রদেশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের মাঝ বরাবর আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব।দুর্যোগের জেরে অন্ধ্রপ্রদেশে প্রাণ গেছে কয়েকজনের। ঝড়ের তাণ্ডবে মাটিতে মিশে গেছে বহু বাড়ি।শুধু অন্ধ্রপ্রদেশ নয়, ঘূর্ণিঝড়ের ঝাপটায় লন্ডভন্ড ওড়িশা, পুদুচেরি ও তামিলনাড়ুর একাংশও। মঙ্গলবার রাত ১.৩০ নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের মাঝ বরাবর শুরু হয় 'অর্ণবে'র ল্যান্ডফল। তখন ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার।অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরিতে প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টিপাত।IMD  অধিকর্তা মনোরমা মোহান্তি বলেন, ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্য়জীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের দাপটে কার্যত তছনছ হয়ে যায় অন্ধ্রপ্রদেশের একাংশ।

Continues below advertisement

অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকায় বহু গাছ ভেঙে পড়েছে। নাগাড়ে বৃষ্টির কারণে জল জমে যায় বিস্তীর্ণ এলাকায়।NDRF IG  নরেন্দ্র সিং বুন্দেলা বলেন,  NDRF-এর ৩৯টি দল ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য়ে মোতায়েন রয়েছে। যার মধ্য়ে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, ইয়ানাম, আন্দামান নিকোবর আর তেলঙ্গানা। 'অর্ণব'-এর প্রভাব পড়ে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশাতেও।পুরী থেকে গোপালপুর, ফুঁসতে থাকে সমুদ্র।ওড়িশা গঞ্জাম কালেক্টর  ভি. কীর্তি ভাসান বলেন,  আমাদের ১১০টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং ১,০২৯ টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র করা হয়েছে। ৬,১৭০ টি মানুষকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত সবচেয়ে বেশি হয়েছে গঞ্জামে। 

 'অর্ণব'-এর জেরে এরাজ্যেও চলবে দুর্যোগ।দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় আগামী ২৪ ঘণ্টা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা  হাবিবুর রহমান বিশ্বাস বলেন, 'মৎস্য়জীবীদের ২৯ তারিখ পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম। আগামীকাল পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার, পূর্ব বর্ধমান জেলার কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।