উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : গুন্ডাদমন বিলে ভোটাভুটিতে ১০ জন বিধায়ক গেলেন কোথায় ? এই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরে। গতকাল বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিলে ভোটাভুটিতে পক্ষে ভোট পড়েছিল ১৭৬টি, বিপক্ষে ৪১টি। বিরত ছিলেন ২০ জন। অথচ প্রথম দফায় OBC সংশোধনী বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে পক্ষে ভোট পড়েছিল ১৮৬টি। তাই প্রশ্ন উঠছে, দ্বিতীয় দফায় ভোটাভুটিতে কোথায় গেলেন ১০ জন বিধায়ক ?

Continues below advertisement

বিস্তারিত...

বিজেপি সরকার আসার পর কালকেই প্রথম বিধানসভায় ২টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিলে ভোটাভুটি হয়। বিধানসভায় ভোটাভুটির যে প্রক্রিয়া তাতে স্লিপ দিয়ে ভোট হয়। অর্থাৎ, যারা ভিতরে থাকেন, তাঁদের স্লিপে 'ইয়েস' অথবা 'নো' লিখে ভোট দিতে হয়। গতকাল দেখা গেল, প্রথম যে ভোটটা ছিল সেটা হল ওবিসি সংশোধনী বিলের ওপর ভোট। যেটাতে নৌশাদ সিদ্দিকি ভোটাভুটি চেয়েছিলেন। তাতে বিজেপি ভোট পেয়েছিল ১৮৬টি। কিন্তু, দ্বিতীয় দফায় যখন গুন্ডাদমন বিল নিয়ে ভোটাভুটি চাওয়া হল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে, সেখানে দেখা গেল ভোটের সংখ্যা ১০টা কমে গেল বিজেপির পক্ষে। ১৭৬টি ভোট পড়ল। তাহলে কি এই ১০ জন বিধায়ক অন্যদিকে ভোট দিয়েছেন। এমনটা কিন্তু নয়। কারণ, বিপক্ষের ভোট একই ছিল। তাহলে ১০ জনের ভোট গেল কোথায় ? দু'টো কারণ হতে পারে। এক, তাঁরা যদি ভোটদানে বিরত থাকেন। দুই, প্রথম হাফে থেকে যদি সেকেন্ড হাফে চলে যান বিধানসভা থেকে।  

Continues below advertisement

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু বিধানসভায় রয়েছেন, এরকম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে দ্বিতীয় হাফে আলোচনা হওয়ার কথা। এবং, UCC বিল বিধানসভা পেশ হতে পারে এমন একটা সম্ভাবনার কথা আগের দিনই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এই পরিপ্রেক্ষিতে সদ্য ক্ষমতায় আসা দলের ১০ জন বিধায়ক তাঁরা কী করে চলে গেলেন । ফলে, এই ১০টি ভোট কেন কম হল তা নিয়ে কাল থেকে বিজেপির অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও সরকারপক্ষের মুখ্য সচেতক জানিয়েছেন, ১০ জন বিধায়ক বিধানসভাতেই ছিলেন। তাঁরা নানা কাজে হয়তো ব্যস্ত ছিলেন। সেই কারণে তাঁরা ভোট দিতে পারেননি।

বদলেছে সরকার। বদলেছে অ্য়াকশন। এবার গুন্ডামি করলে আর নিস্তার নেই। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, শুনে রাখুন যা হয়ে গেছে তা অতীত। আর কিছু করতে দেব না। যদি করে এই আইনের কঠিন ও কঠোর প্রয়োগ হবে। আর যে যার পাস্ট রেকর্ড খারাপ থাকবে, যে দলেরই হোক, যে নেতাই হোক, ১ বছর প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট থাকবে।"

বিক্ষোভ-প্রতিবাদের নামে সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি নষ্টে এবার কড়া পদক্ষেপ। অভিযুক্তদেরই ঘটিবাটি বেচে ক্ষতিপূরণ আদায় করবে সরকার। সোমবার বিধানসভায় গুন্ডা দমন বিল পাস করাতে গিয়ে, ছত্রে ছত্রে সেটাই পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী।