সমীরণ পাল, ময়ূখঠাকুর চক্রবর্তী, সুদীপ্ত আচার্য,কলকাতা: রাজ্যে কি নির্দিষ্ট সময়ে হবে বিধানসভা নির্বাচন? তা না হলে কি কয়েক দিনের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে? এই নিয়ে জল্পনার মধ্যেই তৃণমূলকে নিশানা করে আক্রমণ শানালেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত ও বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার। কী বলেছেন তাঁরা, আর তৃণমূল তার পাল্টা কী জবাব দিয়েছে? ।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, এখনও ৬০ লক্ষের উপরে নাম 'বিবেচনাধীন', আজই রাজ্যে আসছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ

Continues below advertisement

মুখ্যমন্ত্রী  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাষ্ট্রপতি শাসনের কোনও প্ল্য়ান আছে? সেই কারণেই কি গান গেয়ে যাচ্ছেন? বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার বলেন, উনি নিজেই রাষ্ট্রপতিশাসন চাইছেন এটা হচ্ছে ওঁর ষড়যন্ত্র এবং ওঁর ষড়যন্ত্রই ঠিক হবে। সামনেই বিধানসভা ভোট! অথচ SIR-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষেরও বেশি 'বিবেচনাধীন' ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ সিংহভাগই বাকি রয়েছে!এদিকে বর্তমান রাজ্য সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে।

 এখন 'বিবেচনাধীন' সব ভোটারের নথিপত্র যাচাইয়ের পরই কি পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হবে? সেক্ষেত্রে কি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব হবে? যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কী হবে? তাহলে কি রাষ্ট্রপতিশাসন জারি করা হতে পারে? এসব জল্পনার মধ্যেই শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও শোনা গেল রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা। যে কথা বলতে গিয়ে রাজ্যপাল বদলের প্রসঙ্গও টেনে আনলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কখনও জিজ্ঞেস করেছেন কেন রাজ্য়পাল বদলানো হল ভোটের সময়? আমি শুনেছি, তামিলনাড়ুতে যে রাজ্যপাল সবচেয়ে বেশি গন্ডগোল করেছেন, তাঁকে বাংলায় কেন পাঠাচ্ছেন? এর নেপথ্যে কি কোনও ব্লুপ্রিন্ট রয়েছে? মিস্টার প্রধানমন্ত্রী ও মিস্টার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির ডার্টির পার্টি। এরা সব হাম্পটি ডাম্পটি ড্রাগনস্। করো তুমি এখানে রাষ্ট্রপতি শাসন। একটু তোমাদের চেহারাটা দেখতে চাই। তাতে তো আমারই ভাল হবে, আমি বরং একটু দু-একদিন ঘুমিয়ে নেব।  বিজেপি বিধায়ক  অসীম সরকার বলেন, 'উনি নিজেই রাষ্ট্রপতিশাসন চাইছেন বলেই তো বারবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে SIR-টাকে পিছিয়ে দিচ্ছেন। উনি জানেন, আমি থাকব না, অন্তত একটা ছুতো দিতে পারব, বন্ধুগণ আজ আমাদের ঠেলে ফেলে দিল, দেখুন রাষ্ট্রপতিশাসন করে বিজেপি আমাকে ঠেলে ফেল দিল।  সুন্দরভাবে SIR-টা হয়ে গেলে, তাহলে তো ভোট ঘোষণা হয়ে যেত।'জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য নিয়ে বলতে গিয়ে, রাষ্ট্রপতিশাসনের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত।

বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত বলেন, একজন সিনিয়র আইনজীবী, প্রকাশ্যে যদি ভারতের নির্বাচন কমিশনের CEO-কে এভাবে আঙুল কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়ে থাকতে পারেন, তাহলে গোটা দেশ এটা বুঝতে পারে যে, পশ্চিমবঙ্গের ১০ কোটি মানুষ কী অবস্থায় রয়েছে। যখন দেশের নির্বাচন কমিশনের CEO পশ্চিমবঙ্গে সুরক্ষিত নন, আপনি বুঝতেই পারছেন যে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থা কী হবে। যদি নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে নিরপেক্ষ ভোট করাতে চায়,সেটা রাষ্ট্রপতি শাসনের মধ্যে দিয়েই সম্ভব হবে।  শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ব্রাত্য বসু বলেন, উনি (রাজু বিস্ত) তো ইতিমধ্যেই পাহাড়ে নিজেকে স্বঘোষিত গুন্ডা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যিনি পাহাড়ে স্বঘোষিত গুন্ডা হিসেবে চিহ্নিত, তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানাবেন, রাষ্ট্রপতি সেটা শুনবেন কিনা মাঝে মাঝে শুনতে হয় ওঁকে। এক্ষেত্রে শুনবেন বলে আমার মনে হয় না। শেষমেশ কী হবে? সময় মতোই কি হবে ভোট? নাকি বিতর্কের জল অনেক দূর গড়াবে?