কলকাতা: শহর সেজে উঠেছিল লিওনেল মেসিকে (Lionel Messi) বরণ করে নেওয়ার জন্য। কিন্তু মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যেই ছবিটা পুরো বদলে গিয়েছে। টাকা খরচ করে মেসিকে দেখতে এসে ফুটবলের যুবরাজের এক ঝলকও দেখা হল না। তার ওপর আবার জুটেছে পুলিশের লাঠিচার্জও। মাঠে যেভাবে মেসির সামনে পৌঁছে গিয়েছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী ও তাঁর পরিচিতরা, তাঁরাই মূলত ঘিরে ছিলেন মেসিকে। যার জন্য ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় মেসিকে দেখতে দূর দূর থেকে আসা সমর্থকদের মধ্যে। এবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও (Samik Bhattacharya) নিশানা করলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ ভট্টাচার্যকে। তিনি বলছেন, ''তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে টাকা তোলার জন্য এই অনুষ্ঠানে আয়োজন করেছে। শুনেছি আয়োজককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি কে? তাঁর পরিচয় কী? তিনি কার ব্যক্তিগত শত্রু? আমি কাউকে আমার ঘনিষ্ঠ বানালাম, আমার ব্যক্তিগত কাজ করালাম। বিভিন্ন নেতার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে তা কাজে লাগালাম। এগুলো কী?''

Continues below advertisement

বিজেপির রাজ্য সভাপতি আরও বলেন, ''আজ অনেকেই তো ব্ল্যাকে টিকিট কেটেছিলেন। ৩০০০ টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকিটের দাম। জলের বোতল ৩০০ টাকা। চিপসের দাম ১০০ টাকা। পুলিশ এভাবে লাঠিচার্জ করেছে। মাঠের এত ক্ষতি হল, গ্যালারিতে ভাঙচুর হল, কীসের জন্য? শুধু একজনকে গ্রেফতার করলেই হবে না।''

Continues below advertisement

এদিকে, এদিন অভিযোগ ওঠে, 'জায়ান্ট স্ক্রিনেই যদি মেসিকে দেখতে হয়, তাহলে এত টাকা খরচ করে এসেছি কেন?', স্টেডিয়ামের বাইরে বেরিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ দর্শকদের। মন্ত্রী-আয়োজকরাই ছবি তুলছেন, দর্শকরা কী দেখবে? প্রতিক্রিয়া দর্শকদের। এরপরই টিকিটের টাকা ফেরতের এবং অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তর গ্রেফতারির দাবি জানান হয় দর্শকদের তরফে।

এই ঘটনার পর একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। তিনি বলেন, 'সরকার কমিটি গঠন করেছে, আয়োজকদের লিখিত আকারে জবাব দিতে বলা হয়েছে। যে টিকিট বিক্রি হয়েছিল তার টাকা ফেরত দিতে হবে আয়োজকদের, না হলে আইনি ব্যবস্থা। মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। প্রধান আয়োজককে আটক করা হয়েছে, কাউকে ছাড়া হবে না'।

অন্যদিকে জাভেদ শামিম বলেন, 'কারা দোষী তদন্তের পরই বলতে পারব, কিছু সময় লাগবে। যে সব মেসি ভক্তি প্রতারিত ও ক্ষুব্ধ তাঁদের কথা মাথায় রাখা হচ্ছে'।