মোহন প্রসাদ, দার্জিলিং :  উত্তরবঙ্গে বড়সড় বিপর্যয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের দাপটে ভেঙে পড়ল সেতু। ভোগান্তি বাড়ল স্থানীয়দের। শুক্রবার সকালেই দুর্ঘটনার খবর পাহাড়ি জেলায়। দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং মহকুমার দুধিয়া এলাকায় বালাসন নদীর উপর নির্মিত অস্থায়ী সেতু টানা ভারী বৃষ্টির জেরে ভেঙে পড়ল।  বৃহস্পতিবার রাতভর বৃষ্টির পর শুক্রবার সকালে সেতুটি ধসে পড়ে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

Continues below advertisement

কী ঘটেছে?

সকাল থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে মেঘলা আকাশ রয়েছে। শুক্রবার  দিনভর দফায় দফায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে বলে পূর্বাভাস। উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু ইতিমধ্যেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলছে। কার্শিয়ঙের দুধিয়ায় জলের তোড়ে ভেঙে পড়ে অস্থায়ী ব্রিজ, এর জেরে শিলিগুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ওই রুটে।রাত থেকে অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণেই এই বিপর্যয়, বলছে এলাকার মানুষ। এর ফলে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

গত বছরের অক্টোবরে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। পাহাড়ি নদীর জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল একাধিক সেতু ও রাস্তা। সেই পরিস্থিতিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে ১০ অক্টোবর থেকে মিরিকমুখী অস্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রায় ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হওয়া এই সেতু নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছিল সিমেন্টের পাইপ, পাথর এবং অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী। প্রায় ৪৬৮ মিটার দীর্ঘ সেতুটি তৈরিতে ১২০০ মিলিমিটার ব্যাসের মোট ১৩২টি হিউম পাইপ ব্যবহার করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ১৬ দিনের মধ্যেই কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। গত ১২ অক্টোবর, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারায় এনিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে মিরিকে যাওয়ার অস্থায়ী ব্রিজ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। বর্তমানে এই ব্রিজের মাঝের অংশের কিছুটা কাজ এখনও বাকি আছে। এবারের বর্ষার পরে তা শুরু করার কথাও হয়। কিন্তু, তার আগেই গতরাতের বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ল এই অস্থায়ী সেতু। 

Continues below advertisement

প্রভাব পড়েছে নির্মীয়মাণ মূল সেতুতেও

দুধিয়ায় নির্মাণাধীন মূল সেতুটিও ভারী বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর জেরে স্থানীয় মানুষের যাতায়াতে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।

যাত্রীদের জন্য সতর্কবার্তা

আপাতত শিলিগুড়ি-মিরিক রুটে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।

পরিস্থিতির উপর নজর

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতর ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় ভূমিধস এবং রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।