কলকাতা : রাজ্যের অর্থনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং অবৈতনিক গার্হস্থ্য শ্রমকে স্বীকৃতি দিতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বাজেটে জানানো হয়েছে, গৃহস্থ পরিবারের মহিলাদের বাড়ির রান্নাঘরকে ক্লাউড কিচেনে রূপান্তরিত করতে উৎসাহ দিতে একটি নতুন "ক্লাউড কিচেন পলিসি" আনা হবে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, বহু মহিলার রান্নার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে উপার্জনের কথা ভাবতে পারেন। এতদিন শুধুমাত্র পারিবারিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ ছিল তাঁদের স্কিল ! এবার সেই দক্ষতাকেই আয়ের উৎসে পরিণত করার সুযোগ তৈরি করবে সরকার। ন্যূনতম বিনিয়োগে, ঘরোয়া পরিকাঠামো ব্যবহার করেই মহিলারা নিজেদের ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারবেন।
সরকারের মতে, এই উদ্যোগ শুধু মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলবে না, একই সঙ্গে রাজ্যের অর্থনীতিতেও নতুন গতি আনবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও গৃহভিত্তিক উদ্যোগের প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। নতুন ক্লাউড কিচেন নীতির আওতায় খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি, ব্যবসা পরিচালনা, ডিজিটাল দক্ষতা এবং বাজার প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ইঙ্গিতও রয়েছে বাজেট বক্তৃতায়। বাজেট বিবৃতি অনুসারে, 'অবৈতনিক গার্হস্থ্য শ্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে গৃহস্থ পরিবারের মহিলাদের বাড়ির রান্নাঘরকে ক্লাউড কিচেন-এ রূপান্তরে উৎসাহ দিলে তা অর্থনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে চাঙ্গা করতে পারে। এই মডেলে খুব সহজে ন্যূনতম বিনিয়োগে, ঘরোয়া পরিকাঠামো ব্যবহার করে রোজকার রান্নার দক্ষতাকে পারিশ্রমিকযুক্ত উৎপাদনশীল কাজে পরিণত করবে। মহিলাদের মধ্যে মাইক্রো-উদ্যোগের লক্ষ্যে আমাদের সরকার একটি নতুন ক্লাউড-কিচেন পলিসি রূপায়ণ করবে। এর দ্বারা খাদ্যমানের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি, প্রতিযোগিতা, ব্যাবসা ও ডিজিটাল দক্ষতার ট্রেনিং-এর মাধ্যমে কর্ম ও বাস্তব জীবনের ভারসাম্য রক্ষা, মাইক্রো-ফাইনান্স, সরলীকৃত বিধি ও উন্নততর পরিকাঠামো ইত্যাদি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। '
সরকারের আশা, এই প্রকল্পের মাধ্যমে হাজার হাজার মহিলা ঘরে বসেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবেন এবং কর্মজীবন ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।
অন্যদিকে, এছাড়াও মহিলাদের জন্য ভোটের আগে 'সংকল্প পত্রে' যে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল, প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে, সেই সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করল নতুন বিজেপি সরকার। বাজেটের একটা বড় অংশই বরাদ্দ অর্ধেক আকাশদের জন্য। বাজেটে মহিলাদের সুরক্ষার পাশাপাশি তাঁদের ক্ষমতায়নেও বিশেষ জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ, অন্নপূর্ণা যোজনা, উচ্চশিক্ষায় অবিবাহিত ছাত্রীদের সহায়তা, মাতৃত্বকালীন সাহায্য এবং মহিলা থানা ও মহিলা ব্যাটালিয়ন তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে।এই মুহুর্তে রাজ্যে বড় সমস্যা কর্মসংস্থান। তা মোকাবিলায় বাজেটে সরকারি চাকরিতে ১ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
