কলকাতা : বকেয়া DA থেকে সপ্তম পে কমিশন, রাজ্যে ভোট প্রচারে বারবার এই ২ ইস্য়ুকে হাতিয়ার করছে বিজেপি। কখনও নরেন্দ্র মোদি, কখনও অমিত শাহ, ভোট প্রচারে এসে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন এই সব প্রতিশ্রুতিগুলি। এবার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের দিনই বিভিন্ন বড় ঘোষণার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে শোনা গেল ডিএ - প্রসঙ্গও। 

Continues below advertisement

নবান্ন থেকে শুভেন্দু অধিকারী বললেন, “মহিলা নির্যাতন, বকেয়া DA, বেতন কমিশন নিয়ে পরের সোমবার আলোচনা হবে। পরের মন্ত্রিসভায় এব্যাপারে আলোচনা করা হবে।” এই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে , আগের সরকারকেও খোঁচা দিতে ছাড়েননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা আগের মতো, বাজেট হয়ে যাওয়ার পর, চন্দ্রিমা বলে দাও, এভাবে চলতে পারে না।' 

সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা DA নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে আন্দোলন চলছে। পাশাপাশি নারী নির্যাতনের ঘটনা নিয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত। সেই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে আশার সঞ্চার হয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে। 

Continues below advertisement

অমিত শাহ ভোটপ্রচারে এসে ঘোষণা করেন,  বাংলার সব কর্মচারীদের ৪৫ দিনে সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় বেতন আর DA দুটোই দেওয়ার কাজ করবে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলেছিলেন, 'আপনারা পদ্মফুলে ভোট দিন, বিজেপির সরকার তৈরি হলেই এখানে সপ্তম পে কমিশন চালু করা হবে। এটা আমার গ্যারান্টি।' আর ক্ষমতায় আসার উপর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের দিনই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন মহিলা নির্যাতন, বকেয়া DA, বেতন কমিশন নিয়ে পরের সপ্তাহেই আলোচনা হবে।  

সোমবারই, শপথ নেওয়া বিজেপি সরকারের ৫ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর তিনি জানিয়ে দিলেন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সিদ্ধান্ত। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও নিরাপত্তা পরিকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য Border Security Force বা BSF-র হাতে প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সীমান্ত রক্ষায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিষেবা ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্যে Ayushman Bharat সহ একাধিক কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা ( Pradhan Mantri Jan Arogya Yojana ) সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা এবার সরাসরি পাবেন রাজ্যের মানুষ।

সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে থাকায় বহু চাকরিপ্রার্থী বয়সসীমার সমস্যায় পড়েছিলেন। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।

রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা চালুর সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। এর ফলে পুরনো ফৌজদারি আইন কাঠামোর বদলে নতুন আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্যে জনগণনার কাজ শুরু করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আজ থেকেই জনগণনার প্রক্রিয়া চালু হবে এবং ধাপে ধাপে বিভিন্ন জেলায় তথ্য সংগ্রহের কাজ এগোবে।

প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এনে এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের IAS ও IPS আধিকারিকরাও অন্যান্য রাজ্যের মতো কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। এতদিন এই বিষয়ে একাধিক সীমাবদ্ধতা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমানে চালু থাকা কোনও সামাজিক বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। অর্থাৎ আগের সরকারের সময়ে চালু হওয়া প্রকল্পগুলিও বহাল থাকবে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা অব্যাহত রাখা হবে।

 

আরও পড়ুন, “RG কর মুভমেন্টের সময়, মমতার সরকারকে ফেলে দেওয়ার জন্য, অভিষেকের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্র হয়েছিল..”, বিস্ফোরক তৃণমূলের সাসপেন্ডেড মুখপাত্র