বিটন চক্রবর্তী, পূর্ব মেদিনীপুর: রবিবার বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাংসদ, বিধায়ক, কোর কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, তোলাবাজি নিয়ে ফের কড়া বার্তা দেন তিনি। দলের কোন্দল প্রসঙ্গে তিন বিধায়ককে সতর্ক করেন বলেও খবর সূত্রের।
তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, 'এটা একেবারে কড়াভাবে বলে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী যে, এমন কোনও কাজ করবেন না, যাতে তোলাবাজি হচ্ছে বলে মনে হয়।' তোলাবাজি, সিন্ডিকেট থেকে কাটমানি। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এর বিরুদ্ধে লাগাতার কড়া বার্তা দিয়ে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রবিবার সেই বার্তাই ফের একবার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার নিজের জেলায়।
রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের মানিকতলায় বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার বিধায়ক, কোর কমিটির সদস্যদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ও। সূত্রের খবর, বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দেন, রাজ্য সরকারের সব প্রকল্প যেন সকলে পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়নমূলক কাজের জন্য টাকার কোনও অভাব হবে না। এর পাশাপাশি রাগ, অভিমান মিটিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন তিনি। সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত তিনজন বিজেপি বিধায়ককে উদ্দেশ্য করে বলেন, মণ্ডল সভাপতিদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। অন্য দল থেকে যারা এসেছেন তাঁদের যেমন সঙ্গে নিতে হবে, আবার আদি নেতা-কর্মীদের নিয়েও চলতে হবে। সূত্রের খবর, বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বহু বিজেপি কর্মীর আত্মবলিদান, অনেক কৃচ্ছ সাধনের পর মানুষ আশা নিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছে। কোনওরকম দুর্নীতির সঙ্গে কেউ যেন না জড়ান। বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, 'বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে একেবারে পুজোর আগে শেষ করে ফেলুন, পুজোর আগে। সেগুলো হবে। একথা বলেছেন সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। এবং যেহেতু কেউ তৃণমূল করত কিন্তু লোক ভাল, তাকে যে বাদ দিয়ে দিতে হবে তা নয়। এটা একেবারে কড়াভাবে বলে দিয়েছেন যে এমন কোনও কাজ করবেন না যাতে তোলাবাজি হচ্ছে বলে মনে হয়।'
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা পরিষদের বিজেপি নেতা ও সভাধিপতি বামদেব গুছাইত বলেছেন, 'জেলার তত্ত্বাবধানে প্রত্যেকটি বিধানসভাতে আমাদের কোর কমিটি রয়েছে, যেখানে আমাদের মণ্ডল সভাপতিরা রয়েছেন, সেখানে বিধায়করা রয়েছেন, আমরা যারা জেলাস্তরে বা শীর্ষস্তরে আছি, আমরা ওঁর (শুভেন্দু অধিকারীর) নির্দেশিকা নিয়ে লোয়ার লেভেলটায় এবার বসব, বসে যেখানে যা সমস্যা আছে, আমরা সমাধান করব এবং ওঁর এই বার্তা আমরা সবার কাছে সুন্দর ভাবে পৌঁছে দেব।'
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে উঠে আসে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের পদত্যাগ প্রসঙ্গও।
আরও পড়ুন: বর্ষসেরা নির্বাচন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ক্ষুব্ধ আম্পায়ারের পত্রবোমা, কী জানাল সিএবি?
