সন্দীপ সরকার, কলকাতা : ফুরোচ্ছে নিয়োগের মেয়াদ। পুজোর মুখেই চরম অনিশ্চয়তা মুখে এ রাজ্যের শয়ে শয়ে শিক্ষক শিক্ষিকা।  চাকরি হারানোর আশঙ্কায় সল্টলেকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করলেন  চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকারা। করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবন পর্যন্ত অভিযানে নামলেন বহু শিক্ষক - শিক্ষিকা। চাকরি হারানোর ভয়ে তাঁদের মুখে একটাই প্রশ্ন, পুজোয় সবাই বোনাস পায়, আর আমাদের চাকরিটাই কেড়ে নেওয়া হবে?   চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতেই সল্টলেকে চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা নামলেন পথে। বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী শিক্ষকদের শঙ্কা,  "যে সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ, সেই সংস্থার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ফুরোচ্ছে আগামী ৯ অক্টোবর। তারপর নতুন টেন্ডার হবে, তখন চাকরি থাকবে না কারও।" এই আশঙ্কাতেই সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন সোমবার পথে নামলেন চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা।চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকদের দাবি, যে সংস্থার মাধ্যমে তাঁরা নিযুক্ত হয়েছেন, সেই সংস্থার সঙ্গে সরকারের চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়েছে। নতুন করে চুক্তি করতে, সরকার টেন্ডার নোটিস বের করেছে। ফলে আগের যে সংস্থার মাধ্য়মে তাঁরা কাজ করতেন, সেই সংস্থা আর তাদের কাজে রাখবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।  এই পরিস্থিতিতে সরকারকে এগিয়ে এসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই দাবিতেই পথে নামেন তারা। তাঁরা চান সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা বিক্ষোভস্থলে এসে তাঁদের সঙ্গে দেখা করুন ও সরকার নতুন ই-টেন্ডার বাতিল করুক।  

Continues below advertisement

কিন্তু, কেন পশ্চিমবঙ্গে এতজন সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেল ?  চুক্তি অনুসারে, তাঁদের চাকরির মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় আগামী দিনে তাঁদের চাকরি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হিসেব মতো আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁদের চলতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি,  ICT@School প্রকল্পের ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজে যাঁদের নিয়োগ হয়েছে, তেমন ১,৪০০ জন কম্পিউটার শিক্ষককে ইতিমধ্যেই নিয়োগকারী এজেন্সি জানিয়ে দিয়েছে, তাঁদের চুক্তি পুনর্নবীকরণ হবে না।  কাজের মেয়াদ শেষ বলে নোটিশও পেয়ে গিয়েছেন তাঁরা।  সোমবার চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে পথে নামেন রাজ্যের প্রায় ৩ হাজার ৭১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা।  বিকাশ ভবনে ঢোকার আগে আন্দোলনকারী চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আটকায় পুলিশ।তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। প্রশ্ন তোলেন, কেন পুজোর আগে চাকরিটা অনিশ্চিত হয়ে গেল তাঁদের? এতদিন শিক্ষকতা করা সত্ত্বেও কেন তাঁদের চাকরি স্থায়ী করা হবে না? 

কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগের ষষ্ঠ এবং সপ্তম পর্যায়েই  ৫ হাজারের বেশি শিক্ষক নিযুক্ত হয়েছেন। কিন্তু এই বিষয়ে সরকারের বক্তব্য, সরকারি স্কুলে কেন বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে? তাই এই নিয়োগ আর পুনর্নবীকরণ করা হবে না। ভবিষ্যতে সরকারও  সরাসরি নিয়োগের দায়িত্ব নিতে পারে। 

Continues below advertisement