কলকাতা: মহার্ঘভাতা মামলা নিয়ে কাল রায় শোনাবে সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলায় শুনানি প্রক্রিয়া মিটে গিয়েছিল আগেই। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা হবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। আদালতের ১১ নম্বর এজলাসে, সকাল ১০.৩০টায় DA মামলার রায় ঘোষণা হবে। বিচারপতি সঞ্জয় করোলের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করবে। রাজ্য সরকারের লক্ষ লক্ষ কর্মী এই রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। (DA Case Verdict)

Continues below advertisement

গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে DA মামলার শুনানিপর্ব শেষ হয়। আদালত রাজ্য সরকার এবং রাজ্য় সরকারি কর্মচারীদের তিন সপ্তাহের মধ্যে লিখিত বক্তব্য জমা দিতে বলেছিল। বর্তমানে রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা ১৮% হারে DA পান। সব মিলিয়ে কেন্দ্র রাজ্যের মধ্য়ে DA-র ফারাক ৪০%। রাজ্য সরকারের কর্মীরা কি বকেয়ে DA পাবেন? আদালতের রায়ের দিকে এখন সবার নজর। (West Bengal DA Case)

এর আগে, শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল আদালত। সেই সময় রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিবল জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় হারে DA দেওয়ার আলাদা আইন থাকলে আলাদা বিষয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় হারে রাজ্যকেও DA দিতে হবে বলে কোনও আইন নেই। ভিন্ন ভিন্ন হারে DA দেয় রাজ্যগুলি। আর যদি কেন্দ্রীয় হারেই DA দিতে হয়, তাহলে দেশের সব রাজ্যকে সেই মর্মে নোটিস দিতে হবে বলে জানান সিবল। 

Continues below advertisement

DA নিয়ে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, জীবনযাত্রার খরচ-খরচা, মুদ্রাস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা, এসবের উপর নির্ভর করে এক এক জায়গায়, DA-র হার এক এক রকম। কিন্তু রাজ্যের এই দাবি মানতে নারাজ ছিল রাজ্যের সরকারি কর্মীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। 

গত বছরই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া DA-র ২৫% মেটানোর অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু রাজ্য় সরকারের তরফে প্রবল আপত্তি জানিয়ে বলা হয়, বকেয়া DA মেটাতে গেলে বিপুল পরিমাণ টাকার প্রয়োজন হবে। রাজ্য সরকারের কোমর ভেঙে যাবে। এর পর, সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে বলা হয়, ২০০৯ সালের পয়লা জুলাই থেকে ২০১৫-এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া DA-এর ২৫ শতাংশ মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকে। কিন্তু বকেয়া মহার্ঘভাতা মেটাতে আরও ছ'মাস সময় চেয়ে সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করে রাজ্য সরকার।

এই গোটা মামলায় মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, বিভিন্ন রাজ্যের নিয়ম ভিন্ন। বাংলার নিয়ম ছত্তীসগঢ়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। পশ্চিমবঙ্গ ২০১০ সাল পর্যন্ত নিজস্ব নিয়ম অনুসরণ করেছে। এর পর ২০১০ সালের নীতি থেকে সরে আসে রাজ্য সরকার। সেই সময় রাজ্য সরকার যে নিয়ম মেনে চলত, এখন তা অনুসরণ করা হয় না। ট্রাইব্যুনাল এবং হাইকোর্ট যে তাঁদের যুক্তি সমর্থন করেছে, তাও জানান বিকাশরঞ্জন। 

সেই পর্ব পেরিয়ে অবশেষে DA মামলায় রায় ঘোষণা হতে চলেছে।  বকেয়া ডিএ কি পাবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীরা? কালই বোঝা যাবে।