রুমা পাল,কলকাতা : রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে প্রাণনাশের হুমকি ! ই-মেলে রাজ্যপালকে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে খবর সূত্রের। হুমকি মেল পাওয়ার পরই বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জানানো হয়। এনিয়ে গভীর রাতেই রাজ্যপালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা শীর্ষ আধিকারিকদের জরুরি বৈঠক হয়েছে বলে খবর সূত্রের। বাড়ানো হয়েছে লোকভবনের নিরাপত্তা। সিভি আনন্দ বোসের নিরাপত্তায় কলকাতা পুলিশ ও সিআরপিএফ। প্রসঙ্গত, জেড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পান রাজ্যপাল। তবে, এই ধরনের হুমকি এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার হুমকি বার্তা এসেছে। এরই মধ্যে আবার রাজ্যপাল জানিয়েছেন, তিনি নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই কলকাতার রাস্তায় হাঁটবেন। তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, বাংলার মানুষই তাঁকে রক্ষা করবেন। 

Continues below advertisement

'রাজভবনে (পড়ুন লোকভবন) বসে ক্রিমিনালদের রাখছেন আর সবাইকে একটা করে বন্দুক দিচ্ছেন, বোমা দিচ্ছেন, মেরে এসো তৃণমূলের লোকেদের। আপনি আগে সব এগুলো বন্ধ করুন।' গত নভেম্বর মাসে রাজ্যপালের উদ্দেশে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেনজির আক্রমণ ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। 

সম্প্রতি SIR-এর সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্যপালকে বেনজির আক্রমণ শানান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "রাজ্যপালকে আগে বলুন যে রাজ্যপালের ভবনে যেন বিজেপির সমস্ত ক্রিমিনালদের রাজভবনে না রাখে। রাজভবনে বসে ক্রিমিনালদের রাখছেন আর সবাইকে একটা করে বন্দুক দিচ্ছেন, বোমা দিচ্ছেন, মেরে এসো তৃণমূলের লোকেদের। আপনি আগে সব এগুলো বন্ধ করুন। আপনার মতো অপদার্থ রাজ্যপাল যতদিন থাকবে, বিজেপির চাকরবাকর রাজ্যপাল যতদিন থাকবে, ততদিন ভাল জিনিস পশ্চিমবাংলায় কোনওদিন দেখতে পাবেন না।"  সত্য সামনে আনতে জনসাধারণের জন্য রাজভবনের দরজা খোলা রেখেছিলেন রাজ্যপাল। একেবারে CRPF, বম্ব স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াডকে ডেকে এনে লোকভবনে তল্লাশি অভিযান চালান তিনি। এরপরই লোকভবন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন রাজ্যপাল। যার পাল্টা আইনজীবী মারফত সি ভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তৃণমূল সাংসদ। পুলিশকে চিঠিতে কল্যাণ আর্জি জানান, 'তদন্ত করে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হোক।' 

Continues below advertisement

এই ইস্যুতে রাজ্যপালের পদক্ষেপের পাশে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, "রাজ্যপাল ঠিকই করেছেন। কারণ, রাজভবনের (পড়ুন লোকভবন) বাইরে পুরো নিরাপত্তার দায়িত্ব ও সিসি টিভি কলকাতা পুলিশের হাতে। সেখানে যদি কোনও ঝোপে-ঝাড়ে অস্ত্র ফেলে দিয়ে যায় পরবর্তীকালে রাজ্যপাল এবং রাজভবন পড়ুন লোকভবন) দুটোই কালিমালিপ্ত হতে পারে। তাই তিনি যে ব্যবস্থাগুলি নিয়েছেন, রাজভবনের মর্যাদা...সাংবিধানিক পদের গরিমাকে রক্ষা করার জন্য।"