কলকাতা : কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি, পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কোনও রাজ্য় সরকারি কর্মী কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না। সম্প্রতি এই মর্মে একটি নির্দেশিকা দিয়েছে রাজ্য় সরকার। যা নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছেন রাজ্য় সরকারি কর্মীদের একাংশ। সরকারি কর্মচারী পরিষদের সদস্য়দের গলায় আবার অন্য় সুর।

Continues below advertisement

দু'সপ্তাহ আগে শপথ নিয়েছে বিজেপি সরকার। তারপর থেকে কড়া পদক্ষেপের ঝড় উঠেছে। কিন্তু, বুধবার রাজ্য় সরকারের একটি বিজ্ঞপ্তি নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছেন রাজ্য় সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশ। যেখানে অল ইন্ডিয়া সার্ভিস, পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস-সহ রাজ্যের অধীনস্থ সমস্ত স্তরের কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও নীতি, পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কোনও রাজ্য় সরকারি কর্মী কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না। সোশাল মিডিয়া, টেলিভিশন বা প্রিন্ট মিডিয়া—কোনও প্ল্যাটফর্মেই সরকারের বিরুদ্ধে লেখা বা কথা বলা যাবে না। এমন কোনও কথা বলা বা লেখা প্রকাশ করা যাবে না, যাতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পারস্পরিক সম্পর্ক খারাপ হতে পারে। রাজ্য় সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও রাজ্য় সরকারি কর্মচারী - কোনও স্পনসর্ড বা বেসরকারি সংস্থার মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। সরকারি অনুমোদন বা নির্দেশ ছাড়া সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও ফাইল, নথি বা তথ্য পৌঁছে দেওয়া যাবে না।

Continues below advertisement

বৃহস্পতিবার একটি সংশোধিত নির্দেশিকা জারি হয়। যেখানে বলা হয়, এই নির্দেশিকা রাজ্য়ে সরকারের নিয়মিত দফতর এবং সেই সঙ্গে সরকার নিয়ন্ত্রিত বোর্ড, কর্পোরেশন, সরকার অধিগৃহীত এবং আধা সরকারি বা প্য়ারাস্টেটাল সংস্থার অফিসার এবং কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য়।

এ প্রসঙ্গে কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ়ের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, "আমরা আমাদের DA, বোনাস, বেতন কমিশন এবং চাকরির যে শর্ত আছে, সেগুলো যদি পূরণ না করে, আমরা ইলেকট্রনিক্স মাধ্য়ম হোক, প্রিন্ট মাধ্য়ম হোক বা সোশাল মিডিয়া হোক, আমরা প্রচার করে যাব। আমরা এই বাকস্বাধীনতা হরণের তীব্র বিরোধিতা করছি, এই কঠোরভাবে।"

সরকারি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দেবাশিস শীল বলেন, কর্মচারীরা তাঁদের যে পাওনা-গণ্ডা, "তাঁরা যেটা পাচ্ছেন না সেটা নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে কথা বলতে পারবেন না, এমন কিন্তু অর্ডারে কোথাও বলা নেই। কিন্তু বাদবাকি ক্ষেত্রে যে বিধি-নিষেধগুলো আছে এটা আগেও ছিল, বর্তমান সরকার এসে আবার সেটাকে যাকে বাংলায় বলা যায়, পুনর্নবীকরণ করেছে। সরকার তো নতুন করে তাতে কিছু যোগ করেনি। সেই বিধি-নিষেধগুলোই নতুন করে একটা অর্ডারে বের করেছে। তাহলে আগে কি বাক-স্বাধীনতা ছিল ? আমার প্রশ্ন তো এসেই যায় এখানে।"      

অতীতে বকেয়া ডিএ সহ বিভিন্ন ইস্য়ুতে তৎকালীন রাজ্য় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাজ্য় সরকারী কর্মচারীরা! নতুন সরকার এই বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর ভবিষ্য়তে তাঁরা কী করেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।