কলকাতা : মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত। বৈঠকের পর সংবাদিক বৈঠক করে একথা জানিয়ে দিলেন রাজ্যে পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, "রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং বিধিবদ্ধ সংস্থা, বোর্ড, নিগম, স্থানীয় সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সংশোধনের লক্ষ্যে সপ্তমতম রাজ্য বেতন কমিশনের গঠন।"
বিপুল জনাদেশ নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নির্বাচনী প্রচারে একাধিক আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। শুধু তা-ই নয়, শহরের বিভিন্ন প্রাণকেন্দ্রেও দেখা গেছে এই সংক্রান্ত প্রচার সম্বলিত বড় বড় হোর্ডিং, ব্যানার। রাজ্যে সরকার গঠনের পর সেইসব আশ্বাসই একে একে পূরণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে বর্তমান সরকার। আশ্বাসের তালিকায় ছিল রাজ্যে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন চালুর কথাও। সেইমতোই এবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল রাজ্যের নতুন সরকার। মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সেই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশির হাওয়া কর্মচারী মহলে।
এ প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ধর্নামঞ্চে থাকা এক আন্দোলনকারী বলেন, "আমরা ইতিবাচকভাবে ব্যাপারটাকে দেখছি। কারণ, ২০২৬-এর জানুয়ারি থেকে নতুন পে কমিশন হওয়ার কথা। যেটা কেন্দ্রীয় সরকার অলরেডি একবছর আগে গঠন করেছে। সেই পে কমিশন শেষের মুখে, খুব তাড়াতাড়ি পাবলিশ হবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে, এই তিন বছর ধরে দাবি করে আসছিলাম, তৎকালীন বিরোধী দলনেতা আমাদের কাছে আশ্বাস দিয়েছিলেন, আমরা এলে প্রথম ৪৫ দিনের মধ্যে আপনাদের পে কমিশন করব...। তার একটা ধাপ আমরা এগোলাম। পে কমিশন তো আমরা পেয়ে যাইনি। কিন্তু, সরকারের যে ইতিবাচক মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে তারজন্য আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি। কর্মচারী মহলে ডিএ নিয়ে একটা বিষয় ছিল যে...আজ ঘোষণা হবে। কিন্তু, তাদের এজেন্ডায় আজ ছিল না। তাই তারা আজ করতে পারেনি। আশা করছি উনি যে কথাগুলো দিয়েছেন, সেই কথাগুলো রাজ্য সরকার রাখবে।"
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অপর এক প্রতিনিধি বলেন, "অবশ্যই সাধুবাদ জানাই সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে। আজ যে পে কমিশন গঠন হল, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই দাবিটা করে আসছি। বকেয়া ডিএ এবং কারেন্ট ডিএ নিয়ে আমরা আশাবাদী।"
