জগদ্দল : বুধবার, জগদ্দলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তৃণমূল কর্মী। আর সেই ঘটনায়, শনিবার, এক তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধেই FIR করল পুলিশ। যিনি আবার কাউন্সিলরের ছেলে। পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজে ওই তৃণমূল কর্মী সহ ২ জনকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দাপাদাপি করতে দেখা গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।
জগদ্দলে এবার তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলের বিরুদ্ধে পুলিশের FIR। বোমা-গুলির লড়াইয়ে ত্রস্ত জগদ্দল, কাউন্সিলর-পুত্রের বিরুদ্ধে FIR। তৃণমূল কাউন্সিলর সুনীতা সিংহর ছেলে নমিত সিংহর বিরুদ্ধে FIR। ঘটনাস্থলের কাছে অস্ত্র হাতে দাপাদাপি করার CC ফুটেজ। নমিতের সঙ্গে তেলুয়া নামে আরও একজনের হাতে অস্ত্র থাকার দাবি পুলিশের। ২৬ মার্চ, রাত ১০.২০ থেকে ১০.৩০ পর্যন্ত অস্ত্র হাতে নমিতকে দেখার দাবি পুলিশের। বেআইনি অস্ত্র হাতে দাপাদাপি, তৃণমূল কাউন্সিলর-পুত্রের বিরুদ্ধেই FIR।
জগদ্দলে 'জঙ্গলরাজ'! অর্জুনের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলের। অর্জুনই গুলি চালিয়েছিলেন, দাবি সুনীতা সিংহর ছেলে নমিত সিংহর। 'গন্ডগোলের খবর পেয়ে আমরা আহতকে উদ্ধার করতে গেছিলাম। তখনই গলি থেকে হাতে মেশিন নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখি অর্জুনকে। অর্জুন নিজেই গুলি চালাচ্ছিল, অভিযোগ তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলের।
অর্জুনই গুলি চালিয়েছেন, অভিযোগে অনড় সোমনাথ শ্যাম। ৫ থেকে ৬ রাউন্ড গুলি চালিয়েছেন অর্জুন, অভিযোগ তৃণমূল বিধায়কের। ভয় পেয়ে এখন পালিয়ে গিয়েছেন অর্জুন সিংহ। পাটনা বলে দিল্লিতে গিয়ে লুকিয়ে রয়েছেন বিজেপি নেতা, দাবি সোমনাথ শ্যামের। জগদ্দলকাণ্ডে তুঙ্গে চাপানউতোর, পাল্টা জবাব অর্জুনের। আমার বাড়ির পাশে গুলি চললে, আমি যাব না? মেঘনা মোড়ে গেছিলাম, কিন্তু গুলি চালাইনি। গুলি চালালে পুলিশ কেন CC ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে আনছে না? প্রশ্ন অর্জুনের।
খুন, বোমা-বাজি, গুলি, ভাটপাড়া যেন দুষ্কৃতূদের মুক্তাঞ্চল। রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। কিন্তু কেন এই সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না পুলিশ? প্রশ্ন বিরোধীদের। কার গুলিতে জখম হন ভাটপাড়ার তৃণমূল কর্মী? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। তবে এরইমধ্য়ে সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা তৃণমূল কর্মীরা দাবি করলেন, গুলি চালিয়েছেন অর্জুন সিং-ই। তাঁরা গুলি চালাতে দেখেছেন বলেও দাবি করেছেন। পাল্টা অর্জুন সিংহের চ্য়ালে়ঞ্জ, প্রমাণ করতে পারলে, আত্মসমর্পণ করব। ৩ দিন পেরিয়ে গেছে। কিন্তু, জগদ্দলের গুলিকাণ্ডে একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। কার গুলিতে জখম হন ভাটপাড়া পুরসভার কর্মী, তৃণমূল কাউন্সিলর সুনীতা সিংয়ের ঘনিষ্ঠ মহম্মদ সাদ্দাম? কে গুলি চালিয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। তবে দোষারোপ এবং তরজা চলছে পাল্লা দিয়ে।