সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনা : উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের প্রয়াত সিপিএম নেতা। তাঁর বাড়ি পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন মেয়ে। সেই বাড়ি ভেঙেই চলছিল কাজ। আর খোঁড়াখুঁড়ির সময় উদ্ধার হল কঙ্কাল। ২০২৫- এর ঘটনা স্বভাবতই মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৪ বছর আগে ঘটনাকে। ২০১১ সালে গড়বেতায় কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনা। নাম জড়িয়েছিল তৎকালীন সিপিএম বিধায়ক ও মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষের। পরে অবশ্য জামিনও পান তিনি।
অশোকনগরের কল্য়াণগড়ে প্রয়াত সিপিএম নেতা বিজন মুখোপাধ্য়ায়ের বাড়ির মেঝে খুঁড়তেই উদ্ধার খুলি, হাড়গোড়। পুরনো বাড়ি ভেঙে নতুন বাড়ি তৈরির জন্য চলছিল খোঁড়াখুড়ি। সেই সময় মেলে জোড়া খুলি ও হাড়গোড়। কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মেঝে খুঁড়তেই বেরিয়ে এল খুলি! সঙ্গে হাড়গোড়! উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের কল্যাণগড় বাজারে প্রয়াত সিপিএম নেতা বিজন মুখোপাধ্য়ায়ের বাড়ির মেঝে থেকে কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। কীভাবে কোথা থেকে কঙ্কাল এল, এগুলি কাদের কঙ্কাল, কিছুই জানা যায়নি এখনও।
বাম আমলের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন বিজন মুখোপাধ্য়ায়। অশোকনগর সিপিএমের আঞ্চলিক কমিটির সদস্যও ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে প্রয়াত হন তিনি। তাঁরই পুরনো এই বাড়ি ভেঙে নতুন বাড়ি তৈরির কাজ চলছিল। সেই কাজ চলাকালীন উদ্ধার হয় কঙ্কাল। কিন্তু এই কঙ্কাল কাদের? সিপিএম নেতার বাড়ির মেঝের তলায় কীভাবে এল? কঙ্কাল উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ঘটনাস্থলে হাজির হন হাবড়ার এসডিপিও ও অশোকনগর থানার পুলিশ। পুলিশসূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া ২টি খুলি ও হাড়গোড় ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনা উস্কে দিচ্ছে ১৪ বছর আগে গড়বেতায় কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনা। সালটা ছিল ২০০২। কেশপুরে সাত জন তৃণমূল কর্মীকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন শাসকদল সিপিএমের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় প্রথম থেকে অভিযোগে আঙুল ওঠে গড়বেতার তৎকালীন সিপিএম বিধায়ক ও মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষের দিকে। পরে, ২০১১ সালে গড়বেতার দাসেরবাঁধ এলাকায় মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয় ৭টি নর কঙ্কাল। ডিএনএ পরীক্ষাতে প্রমাণিত হয়, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের কয়েকটি নিখোঁজ তৃণমূল কর্মীদের। ওই বছরই গ্রেফতার হন একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিএম নেতা সুশান্ত ঘোষ। পরে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে জামিন দেয়। গড়বেতার পর অশোকনগরে কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা।