অরিন্দম সেন, আলিপুরদুয়ার : পর্যটকদের সাধের তোর্ষা নদীর এ কী দশা! আবর্জনার ডাম্পিং গ্রাউন্ড হয়ে দৃশ্যদূষণের কার্যত ধারক হয়ে উঠেছে এই নদী। কিন্তু কীভাবে? আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের অন্তর্গত ভারত-ভূটান সীমান্তের জয়গাঁও উন্নয়ন পর্ষদ এলাকার এই দৃশ্য এখন সেখানকার বাসিন্দাদের নিত্যসঙ্গী। দৃশ্য দূষণের সঙ্গে পরিবেশ দূষণেও অতিষ্ঠ এলাকার বাসিন্দারা।
ভূটানের প্রবেশদ্বার এই জয়গাঁও শহরের সমস্ত আবর্জনার ডাম্পিং গ্রাউন্ড হয়ে উঠেছে তোর্ষা নদীর চর। অভিযোগ, এই অবস্থা জন্য দায়ী জয়গাঁও উন্নয়ন পর্ষদই। শুধু শহরের প্লাস্টিক-সহ দূষিত আবর্জনাই নয়, গৃহপালিত পশুপাখির মৃতদেহও ফেলা হয় এই নদীর চরে। আর এই কাজ করে জয়গাঁও ডেভলপমেন্ট অথরিটির সলিড-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের স্টিকার লাগানো গাড়ি। এখানেই শেষ নয়, সেই আবর্জনায় আগুন ধরিয়ে বায়ু দূষণও ঘটছে সমান তালে। অভিযোগ, এসবই নাকি হচ্ছে সরকারি মদতে।
তিব্বতের চুম্বি ভ্যালিতে উৎপত্তি, সেখান থেকে ভূটানের মাঝ দিয়ে বয়ে এসে জয়গাঁও শহরেই ভারতের সীমানা ছুঁয়েছে তোর্ষা। তারপর আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার জেলা হয়ে অসমের ধুবড়ি জেলার ব্রহ্মপুত্র নদে মিশেছে। এই নদীর জলের উপরই ভরসা করে জলদাপাড়ার মত জাতীয় উদ্যান। অথচ ভূটান হয়ে ভারতে প্রবেশের মুখেই দূষণের শিকার হচ্ছে এই নদী। তার জন্য মাথায় হাত এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী মহলের। বর্ষাকালে পাহাড়ি এই নদী খরস্রোতা হয়ে যদি রুদ্ররূপ ধারণ করে। তেমনটা হলে নদীগর্ভে জমা দূষিত আবর্জনাও ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র, তখন কী হবে!
প্রসঙ্গত, আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের জয়গাঁও ১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত অন্তর্গত এই এলাকায় বসবাস করেন বিভিন্ন জনজাতির প্রায় এক লক্ষের বেশি মানুষ। পশ্চিবঙ্গ সরকারের উদ্যোগেই ২০১১ সালের পরবর্তী সময়ে আলিপুরদুয়ার জেলার জয়গাঁও শহরের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে জয়গাঁও উন্নয়ন পর্ষদ (JDA) গঠিত হয়। যা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দপ্তরের অধীনে জয়গাঁও ও সংলগ্ন এলাকার পরিকল্পিত পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করেছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয়, ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও জনবহুল এই এলাকায় এখনও কোনও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গড়েই ওঠেনি। অভিযোগ, কাজ না হলেও পরিষেবার জন্য ব্যবসায়ীদের থেকে কিন্তু নিয়ম করে ট্যাক্স নেওয়া হয়। তাহলে সে টাকা যাচ্ছে কোথায়? তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের। বর্তমানে দূষণের মাত্রা ছাড়ানোয় ভবিষ্যতের কথা ভেবে রীতিমতো শঙ্কিত বাসিন্দারা। বারংবার আর্জি জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই ইস্যুকে কি হাতিয়ার করবে শাসকবিরোধী গেরুয়া শিবির? জয়গাঁও উন্নয়ন পর্ষদকে দায়ী করে বঙ্গ বিজেপি যে কালচিনি বিধানসভা কেন্দ্রে ঝাঁপিয়ে পড়বে, তার ইঙ্গিত মিলেছে বিজেপি বিধায়ক বিশাল লামার বক্তব্যে। তবে এর দায় কি নিচ্ছে জয়গাঁও ডেভলপমেন্ট অথরিটি? উত্তর না, বরং তারা সমস্ত দায়ভার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঘাড়েই চাপিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জয়গাঁও ডেভলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান গঙ্গা প্রশাদ শর্মার আশ্বাস, খুব তাড়াতাড়িই সেখানে সলিডওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গড়ে উঠতে চলেছে।