ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, কলকাতা : ২৪ ঘণ্টা পার, চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রাস্তায় কম্পিউটার শিক্ষকরা। বিকাশ ভবনের সামনে টানা অবস্থানে বসে আছেন কম্পিউটার শিক্ষকরা। সরকারের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কারও চাকরি যাবে না। কিন্তু তারপরেও বিকাশ ভবনের সামনে রাতভর অবস্থানে রইলেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, "যে সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ, সেই সংস্থার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ফুরোচ্ছে আগামী ৯ অক্টোবর । তারপর নতুন টেন্ডার হবে, তখন চাকরি থাকবে না কারও, এই আশঙ্কায় পথে নেমেছেন তাঁরা। '' তবে আন্দোলনকারীদের দাবি শুধু চাকরির স্থায়ীকরণ নয়, বরং আদের আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, প্রথম পাঁচটি পর্যায়ে নিযুক্ত কম্পিউটার শিক্ষকদের সরকারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। বেসরকারি এজেন্সি ব্যবস্থা থেকে তাদের বের করে আনা হয়েছে। ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ে নিযুক্তরাও এমনই ব্যবস্থা চাইছেন। ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ের ৩,০০০-এরও বেশি শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে এজেন্সির মাধ্যমে। ৩ হাজার ৭১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে পথে নেমেছেন ।
পুজোর আগেই তৈরি হয়েছে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় সোমবার থেকেই পথে নেমেছেন পশ্চিমবঙ্গের চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিকাশ ভবন চত্বর। কারও হাতে জাতীয় পতাকা। কারও হাতে পোস্টার-ব্য়ানার। কারও কারও হাতে থালা-হাতা। সেই সঙ্গে নাগাড়ে স্লোগান। পথে নামা এই চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকদের দাবি, যে সংস্থার মাধ্যমে তাঁদের নিয়োগ করা হয়, তাদের সঙ্গে সরকারের চুক্তির মেয়াদ ফুরোচ্ছে ৯ অক্টোবর। নতুন করে চুক্তি করতে, সরকার নোটিস জারি করেছে। এতদিন যে সংস্থার মাধ্য়মে তাঁরা কাজ করতেন, সেই সংস্থা আর তাদের কাজে রাখবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ পুজোর আগে কাজ হারাতে চলেছেন এরা। অনিশ্চিত ভবিষ্য়তের আশঙ্কায় সোমবার পথে নামেন ৩ হাজার ৭১৯ জন চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকা।
আন্দোলনকারীদের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে, রাজ্য় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন কুণাল ঘোষ। তিনি রাজ্যের শাসকদলকে কটাক্ষ করে বলেন, যাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সব সমস্য়ার সমাধান করে দেবেন, মুশকিল আসান, তাঁরাই তো কথা রাখছেন না।
আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজ্য় সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়াক। তবে সরকার মৌখিক ভাবে জানিয়েছে কারও চাকরিই যাবে না, কিন্তু তাঁরা লিখিত বিবৃতি চাইছেন। শেষ অবধি আন্দোলনকারীদের ভবিষ্য়ৎ কী? সেটাই দেখার।
