পূর্ণেন্দু সিংহ, বাঁকুড়া : বাঁকুড়ায় BLO-র ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। কাজের চাপেই আত্মহত্যার অভিযোগ পরিবারের। মৃত BLO রাজাকাটা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হারাধন মণ্ডল। রানিবাঁধ বিধানসভার ২০৬ নম্বর বুথে BLO-র দায়িত্বে ছিলেন। ফের CEO দফতরের সামনে বিক্ষোভ। CEO দফতরের সামনে বিক্ষোভ তৃণমূলপন্থী BLO-দের। BLO মৃত্যুর প্রতিবাদে তৃণমূলপন্থী BLO সংগঠন। 

Continues below advertisement

আমি আর চাপ নিতে পারছি না। বিদায় ! ফের কাজের চাপে আরও এক BLO-র আত্মঘাতী হওয়ার অভিযোগ উঠল! কৃষ্ণনগরের পর এবার বাঁকুড়ার রানিবাঁধ। সামনে এল এই সুইসাইড নোট ! মৃত হারাধন মণ্ডল বাঁকুড়ার রানিবাঁধের রাজাকাটা স্কুলের প্রধান শিক্ষক। রানিবাঁধ বিধানসভার ২০৬ নম্বর বুথের BLO-র দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই। পরিবারের দাবি, প্রতিদিনের মতো এদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরোন হারাধন মণ্ডল। কয়েক ঘণ্টা পর, তাঁর নিজের স্কুলের একটি ক্লাসরুমের ভিতর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় হারাধন মণ্ডলের দেহ। পরিবারের দাবি, মৃতেদেহের পাশেই উদ্ধার হয়েছে এই সুসাইড নোট। তাতে লেখা, 'এই BLO কাজের জন্য আমিই দায়ী। এর সাথে কারও যোগ নেই। ভুল আমার। একেবারে শেষে লেখা রয়েছে, সব ঠিক করেও ভুল করলাম। ক্ষমা কর আমাকে।' এদিন মৃত BLO হারাধন মণ্ডলের ছবি নিয়ে CEO দফতরের সামনে মিছিল করে আসেন তৃণমূলপন্থী BLO-রা। এরপর সেখানেই হয় শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। সব মিলিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। 

এই একই ধরনের সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের বিএলও রিঙ্কু তরফদারের বাড়ি থেকে। তিনিও আত্মঘাতী হয়েছিলেন। সেই সুইসাইড নোটেও উঠে এসেছিল চাপের প্রসঙ্গ। লেখা ছিল, 'এই অমানসিক কাজের চাপ আমি নিতে পারছি না। আমার এই পরিণতির জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী।' রানিবাঁধের এই ঘটনার পর সরব হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাড়াহুড়ো করে, বিশৃঙ্খল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত SIR প্রক্রিয়ার অমানুষিক কাজের চাপে আর এক BLO নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। শনিবারও BLO মৃত্যু নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। 

Continues below advertisement

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই কাজের অত্যধিক চাপ থাকার অভিযোগ করেছিলেন বিএলও- দের অনেকেই। এর আগে একাধিক বিএলও- র অসুস্থ হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। মৃত্যুও হয়েছে বেশ কয়েকজন বিএলও- র। তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর- এর কাজের অত্যধিক চাপের কারণেই কারও অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে, কেউ নিজেই জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফের একবার এসআইআর- এর কাজের চাপে এক বিএলও- র আত্মহত্যার অভিযোগ উঠল।