কলকাতা: রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধি— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের মাধ্যমে জনমুখী বাজেটের বার্তা দিল রাজ্য সরকার। প্রত্যাশা মতোই DA নিয়ে করা হল বড় ঘোষণা।

Continues below advertisement

অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বর্তমানে ১৮ শতাংশ হারে DA পাওয়া রাজ্য সরকারি কর্মী, আধা-সরকারি কর্মী, অশিক্ষক কর্মী এবং পেনশনভোগীরা অতিরিক্ত ২০ শতাংশ DA পাবেন। ফলে মোট DA বেড়ে দাঁড়াবে ৩৮ শতাংশ। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, নতুন DA কার্যকর হবে ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে। এর ফলে লক্ষাধিক সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হবেন। দীর্ঘদিন ধরে DA বৃদ্ধি নিয়ে কর্মচারী মহলের দাবি ছিল। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই এই ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে ৬০ শতাংশ হারে DA পান। এ রাজ্যের আন্দোলনকারী সরকারি কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, খাতায় কলমে ফারাক ৩৮%।   তবে বকেয়া DA নিয়ে আইনি জট না কাটায় বাস্তবে কেন্দ্রের সঙ্গে ফারাক ৪২ শতাংশ। এবার আগের থেকে ২০ শতাংশ ডিএ বাড়ানো হল। এবার দেখার সরকারি কর্মীরা এই ঘোষণা খুশি হন কি না। 

Continues below advertisement

ক্ষমতায় এসেই সপ্তম বেতন কমিশনে অনুমোদন দিয়েছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। রাজ্য বাজেটের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত DA বাড়ানোর ঘোষণা করতেই, পুজোর মাসে সেই টাকা রাজ্য সরকারি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে DA-র পার্থক্য দূর করে খুব দ্রুত সমান হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ইঙ্গিতও দিলেন তিনি। তিনি আশ্বাস দিলেন, 'আপাতত ২০% আপনাদের দিলাম। পুজোর মাসেই অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন। বাকি যে গ্যাপ থাকল ২২% সেটাও ধীরে ধীরে... ধীরে ধীরে... অপেক্ষা করুন আরেকটা বাজেট পর্যন্ত।' 

এছাড়া বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, রাজ্যে পুলিশ বিভাগে মোট ২০ হাজার নিয়োগ হবে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে নিঃসন্দেহে।  এছাড়াও বাজেটে নতুন করে 'সংগ্রামী ভাতা' চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ বা রাজনৈতিক হিংসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের এই ভাতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার। রাজনৈতিক হিংসার শিকারদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা হিসেবেই এই প্রকল্প । রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে চাকরি, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা এবং সরকারি কর্মীদের আর্থিক স্বস্তির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।