রুমা পাল, কলকাতা: কোথাও ভুরি ভুরি মৃত ভোটার, কোথাও আবার তালিকায় নাম থাকা ভোটারের অস্তিত্বই নেই- ভোটার লিস্টে কারচুপি নিয়ে শোরগোল পড়েছে রাজ্যে। টানাপোড়েনের সূত্রপাত ৫ অগাস্ট। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের রিপোর্টের ভিত্তিতে, ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগে, ২ জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ERO, ২জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা AERO-কে সাসপেন্ড করতে মুখ্যসচিবকে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন।
এবার সেই ৪ অফিসারকে সাসপেন্ড করল রাজ্য। ২ WBCS অফিসার-সহ ৪ জনকে সাসপেন্ড করল রাজ্য। জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে পদক্ষেপের কথা জানাল রাজ্য, সূত্রের খবর। যদিও এই ৪ জনকে সাসপেন্ড করতে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করতে নির্দেশ দেয় কমিশন। তবে, সাসপেন্ড হলেও ৪ অফিসারের বিরুদ্ধে FIR হল না। সাসপেন্ড বারুইপুর পূর্বের ERO দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী। সাসপেন্ড বারুইপুর পূর্বের AERO তথাগত মণ্ডল। সাসপেন্ড ময়নার ERO বিপ্লব সরকার ও AERO সুদীপ্ত দাস। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র ময়নার ক্যাজুয়াল ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে সাসপেনশনের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে FIR-ও করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, রাজ্য সরকারের তরফে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিতে এমনটাই জানানো হয়েছে।
মুখ্যসচিবকে পাঠানো নির্বাচন কমিশনের পাঠানো চিঠিতে বলা বলা হয়, এই ৪ জন সরকারি অফিসার ভোটার তালিকায় ভুলভাবে নাম তুলেছেন। তাঁরা শুধুমাত্র ERO কিংবা AERO হিসেবে দায়িত্ব পালনেই ব্যর্থ হননি, অন্যের হাতে 'লগ ইন' সংক্রান্ত তথ্য তুলে দিয়ে ডেটা সুরক্ষা নীতিও লঙ্ঘন করেছেন।
যদিও এই ইস্যুতে সুর চড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এর আগে বলেছিলেন, '২ জন WBCS অফিসার, ওঁরা সাসপেন্ড করে দিল, নির্বাচন ঘোষণাই হয়নি। কী সাহস!+এখন থেকে কী ভেবেছেন? এই NRC-র নাম করে, ব্য়াকডোরে যাকে ইচ্ছা অফিসারদের ভয় দেখাবেন? অফিসারদের পাশে সরকার ছিল, আছে এবং থাকবে।'
তবে এরপর কড়া চিঠি দিয়ে নবান্নর ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করে নির্বাচন কমিশন। অবশেষে বৃহস্পতিবার ৪ অফিসারকে সাসপেন্ড করে ব্যবস্থা নিল রাজ্য সরকার।
বছর ঘুরলে বিধানসভা ভোট। তার আগে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন এই আবহে নবান্ন এবং নির্বাচন কমিশনের এই বেনজির সংঘাতের জল এবার কোনদিকে গড়াবে?