সনৎ ঝা, শিলিগুড়ি : বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। ছুটি পেলেই মন বেড়াই-বেড়াই করে। কিন্তু অনেক সময়ই বাধা হয়ে দাঁড়ায় বাজেট। ইদানিং পর্যটনের খরচ নিয়ে অনেকেরই কপালে ভাঁজ। কিন্তু এবার সবার জন্য পর্যটন নিয়ে ভাবছে নতুন রাজ্য সরকার। জানালেন পর্যটন মন্ত্রী শিলিগুড়ির বিধায়র শঙ্কর ঘোষ। বললেন, এবার আমাদের লক্ষ্য সবাইকে পর্যটনের আওতায় আনা।   মন্ত্রী জানালেন, 'এবার আমাদের লক্ষ্য হল ট্যুরিজম ফর অল ক্লাসেস। অর্থাৎ একেবারে উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত মানুষ , তাদের সবাইকে পর্যটন বৃত্তে নিয়ে আসা। প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, পর্যটনকে এক্সপ্লোর করা হবে বিশ্বের দরবারে, অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, এটাই আমাদের সরকারের লক্ষ্য। '  গত ১২ জুন পর্যটন দফতরের দায়িত্বভার গ্রহণ করে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, ' বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনের অসীম সম্ভাবনাকে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিতে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করব। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গী করে উন্নয়নের এই যাত্রায় এগিয়ে চলাই আমাদের লক্ষ্য।' 

Continues below advertisement

সোমবার শিলিগুড়ি শহরের মৈনাক ট্যুরিজম প্রপার্টিতে  পর্যটন দফতরের অফিসে পৌঁছে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন দফতরের আধিকারিকরা তাঁকে উষ্ণ সংবর্ধনাও জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে বিশ্বদরবারে নতুনভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি গোটা রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয় করে তোলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “বাংলার পর্যটনকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে চাই, যাতে তা বিশ্বের মানচিত্রে একটি বিশেষ পরিচিতি পায়।” আগামী ১৭ তারিখ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে শঙ্কর ঘোষ জানান, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে একাধিক নতুন প্রস্তাব তিনি উপস্থাপন করবেন, যা পরবর্তীতে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তোলা হবে। পাশাপাশি পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

বিশেষ করে ঘুম থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রাস্তায় যানজটের সমস্যার কারণে পর্যটকদের যে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়, সেই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান পর্যটনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। এছাড়াও উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন শঙ্কর ঘোষ। তাঁর মতে, পর্যটনের প্রসারের নামে যাতে চা বাগানের ক্ষতি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে। পর্যটন এবং চা শিল্প—উভয় ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই উন্নয়নের পথে এগোতে চায় রাজ্য সরকার। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের এই একাধিক ঘোষণাকে ঘিরে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছে পর্যটন মহল। গত বিধানসভা ভোটের আগে সিপিএম থেকে দল বদলে যান বিজেপিতে। তারপরই ভোটের টিকিট এবং একদা রাজনৈতিক গুরু অশোক ভট্টাচার্যকে হারিয়ে বিধানসভায় জায়গা করে নেন শঙ্কর ঘোষ। এবারেও শিলিগুড়ি আসনে শঙ্কর ঘোষের ওপরই ভরসা রাখে বিজেপি। উল্টোদিকে ছিলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী, শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। কিন্তু তাঁকে পরাজিত করে বিধায়ক হয়েছেন শঙ্করই। তারপর হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার মন্ত্রী। দায়িত্ব পেয়েছেন পর্যটন দফতরের। তারপরই রাজ্যের পর্যটনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন শঙ্কর ঘোষ।   

Continues below advertisement