কলকাতা : আশ্বিনের মাঝামাঝি পুজোর বাজনা বেজে ওঠার আগেই পশ্চিমবঙ্গের আকাশে দুর্যোগ শঙ্কা। একটি ঘূর্ণাবর্তের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা আগেই জানিয়ে রেখেছিল আবহাওয়া দফতর। তা থেকে একটি নিম্নচাপও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেছিল আবহাওয়া দফতর। এই পরিস্থিতি কে সত্যি-সত্যিই ঘূর্ণিঝড়ের দিকে গড়াবে ? বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী, উত্তর আন্দামান সাগরে, পোর্ট ব্লেয়ারের পূর্ব দিকে একটি নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েকদিনে সেটি ক্রমশ শক্তি বাড়াবে। তারপর তা নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। সেই নিম্নচাপটি যথেষ্ট পরিমাণে শক্তি সঞ্চয় করে পরিণত হতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে। এখনকার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সিস্টেমটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে উত্তর আন্দামান সাগর পেরিয়ে পূর্ব ও মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে যেতে পারে। এরপর এর গতিপথ হতে পারে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের দিকে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ১৯-২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণাবর্তটি আরও সুসংগঠিত হয়ে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি করতে পারে। ২০-২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেটি ধীরে ধীরে নিম্নচাপ বা ডিপ্রেশনে পরিণত হতে পারে। এরপর ২১-২২ সেপ্টেম্বর নাগাদ সেটি গভীর নিম্নচাপের রূপ নেবে। ২২-২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে নিম্নচাপটি। ২৩-২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিস্টেমটি আরও শক্তিশালী হতে পারে। সেই সময় অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও পরবর্তী সময়ে শক্তির মাত্রা এবং গতিপথে পরিবর্তন হতে পারে। তবে যদি ঘূ্র্ণিঝড়টি তৈরি হয় , তার নাম হবে অর্ণব। এই নামকরণ করেছে বাংলাদেশ। অর্ণব স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে ২৫ সেপ্টেম্বর নাগাদ। তবে ল্যান্ডফল পশ্চিমবঙ্গে নয়, হতে পারে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে ওড়িশা উপকূলে।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ এই রাজ্য থেকে কিছুটা দূরে হলেও পশ্চিমবঙ্গেও ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে। আগামী মঙ্গলবারের পর থেকেই আবহাওয়ার চরিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। রবিবার এবং মঙ্গলবার বিক্ষিপ্তভাবে স্বল্পস্থায়ী কিন্তু ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবারের পর থেকে পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন হতে পারে।মঙ্গলবারের পর থেকে সপ্তাহান্তের গোড়া পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকাগুলিতে হাওয়ার গতি ক্রমশ বাড়তে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বা তারও বেশি হতে পারে ।
এর পাশাপাশি দফায় দফায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সমুদ্রও উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মৎস্যজীবী ও সমুদ্রনির্ভর কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে। আবহবিদ জানালেন, এটি ১৯ সেপ্টেম্বরের বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতির ভিত্তিতে করা সম্ভাব্য পূর্বাভাস। নিম্নচাপটি পরবর্তী সময়ে কোন দিকে এগোয়, কতটা শক্তিশালী হয় এবং কোথায় স্থলভাগে প্রবেশ করে, তা পরবর্তী পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।
সিকিম ও উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টি চলছেই । তবে সপ্তাহশেষে দুর্যোগ বাড়তে পারে, আরও খারাপ হতে পারে আবহাওয়া। বিশেষ করে, বৃহস্পতিবারের পর থেকে পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সিকিম এবং দার্জিলিং, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
