আশ্বিনের শুরুতেই ফের সাইক্লোন ভ্রুকুটি। পশ্চিমবঙ্গের আকাশে মেঘের ঘনঘটা। সোমবার সকাল থেকেই কোথাও কোথাও মুখ ভার আকাশের। বঙ্গোপসাগরের বুকে তৈরি হওয়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চল পরিণত হতে পারে নিম্নচাপে ও পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড়ে। সিস্টেমটির কেন্দ্র বর্তমানে কলকাতা থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পুরী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছে। ঝড়টি তৈরি হলে নাম হতে চলেছে ‘অর্ণব’। এই মহাঝঞ্ঝার দাপট কি ভোগ করবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষও? কী বলছেন আবহবিদরা  ? চলুন জেনে নেওয়া যাক। 

Continues below advertisement

আবহাওয়ার লেটেস্ট বুলেটিন বলছে, আপাতত সিস্টেমটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। আগামী কয়েক দিনে এটি ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে নিম্ন এবং পরবর্তীতে অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ-ওড়িশা উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে কোথায় ল্যান্ডফল হবে, তা এখনও বলা যাচ্ছে না।  ওয়েদার আলটিমার দেওয়া পূর্বাভাস অনুসারে, ২১-২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তৈরি হতে পারে গভীর নিম্নচাপ।  এরপর তা অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। এরপর যদি নিম্নচাপ অনুকূল ভৌগলিক পরিস্থিতি পায়, তাহলে শক্তি বাড়িয়ে পরিণত হতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে। 

আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার বিশ্লেষণ অনুসারে,  বর্তমানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। যদি বাতাসের গতিবিধির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে উপকূলের তুলনামূলক কাছাকাছি এসে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়, তাহলে তা বেশি শক্তি বৃদ্ধি করতে পারবে না। তাই এখনই বলা যায় না ঘূর্ণিঝড় হবে কি হবে না। 

Continues below advertisement

এখন প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গে কী প্রভাব পড়তে পারে? সরাসরি এই রাজ্যে ল্যান্ডফল না হলেও,  আগামী কয়েক দিনে আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে পারে। সোমবার ও মঙ্গলবার কলকাতায় তাপমাত্রা আনুমানিক ২৫ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরম ও ভ্যাপসা অনুভূতি বজায় থাকবে। এর পাশাপাশি আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে।  মাঝে মাঝে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার গতিবেগ ৩০-৪৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা নেমে হতে পারে প্রায় ২৪-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে । পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে  বুধবারের পর থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন  বেশি স্পষ্ট হবে। বুধবার থেকে সপ্তাহান্ত পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলে  বৃষ্টি বাড়বে।  

শুক্রবার ও শনিবার পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়ার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিম এবং সংলগ্ন এলাকায় ভারী থেকে খুব ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি নদী ও ঝোরার জলস্তর বাড়তে পারে। এছাড়া  হড়পা বান, ফ্ল্যাশ ফ্লাড, ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।