কলকাতা: বর্ষা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। এক নিম্নচাপের প্রভাব কাটতে না কাটতেই ফের বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের নতুন বুলেটিন অনুযায়ী, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। তার প্রভাবেই আগামী ২৯ অগস্ট নাগাদ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূলে নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে।

Continues below advertisement

এর জেরে ২৮ অগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ৩০ অগস্ট ও ৩১ অগস্টের আগে-পরে বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও ৭-২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে একটি উপরিস্তরীয় ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। সেটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে ২৯ অগস্ট নাগাদ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি সক্রিয় রয়েছে মৌসুমি অক্ষরেখা। অমৃতসর, দেরাদুন, খেরি, উত্তরপ্রদেশের উপর থাকা নিম্নচাপ এলাকা, মধুপুর, বাঁকুড়া হয়ে এই অক্ষরেখা উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের দিকে বিস্তৃত হয়েছে।

Continues below advertisement

এই দুই আবহাওয়া ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাবেই ফের বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট। ২৮ অগস্ট থেকে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক-দু'টি জায়গায় ৭-১১ সেন্টিমিটার ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হুগলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে।

উত্তরবঙ্গেও এদিন সতর্কতা রয়েছে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ৭-১১ সেন্টিমিটার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। শনিবার থেকে বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে পারে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, কলকাতা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে এক-দু'টি জায়গায় ৭-১১ সেন্টিমিটার ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঝোড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতে ঝড়ের গতি থাকতে পারে ৩০-৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।

কলকাতাতেও শনিবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। IMD-র কলকাতা পূর্বাভাসেও ২৯ ও ৩০ অগস্ট Heavy Rainfall-এর সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও ৩০-৪০ কিমি/ঘণ্টা দমকা হাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

৩০ অগস্ট থেকে ৩১ অগস্ট—এই সময়টিই দক্ষিণবঙ্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭-২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে। অন্যত্র ঝোড়ো হাওয়ার গতি থাকতে পারে ৩০-৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। মাসের শেষ দিনেও বৃষ্টি থেকে রেহাই নেই। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় এক-দু'টি জায়গায় ৭-১১ সেন্টিমিটার ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

সেপ্টেম্বরের শুরুতেও বৃষ্টি পুরোপুরি কমছে না। ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়া জেলায় এক-দু'টি জায়গায় ৭-১১ সেন্টিমিটার ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে দক্ষিণবঙ্গের বাকি অংশে মূলত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা।

উত্তরবঙ্গেও কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ২৯ অগস্টে জলপাইগুড়িতে ফের ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ৩১ অগস্টে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।