কলকাতা: ক্যালেন্ডার বলছে বর্ষা এসেছে, কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া যেন তা মানতেই চাইছে না। কয়েকদিন আগে, শুক্রবার পুরুলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের কিছু অংশ বাদ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণবঙ্গে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেছে। তবে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই বর্ষার সেই চেনা ছবি এখনও দেখা যায়নি। বরং ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আপাতত দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। আগামী কয়েকদিন একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকবে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে, তবে তা গরম থেকে বড় স্বস্তি এনে দিতে পারবে না। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। সেখানে আগামী দু'দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। পাহাড় ও ডুয়ার্সের একাধিক জেলায় বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে কী পরিস্থিতি?
১৫ জুন পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় কয়েকটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৬ জুন বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকলেও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেইফলে বর্ষা ঢোকার পরেও দক্ষিণবঙ্গে গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি আরও কিছুদিন বজায় থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
১৫ জুন দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার জেলায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৬ জুন জলপাইগুড়ি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারেও বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। মালদা, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কী কী প্রভাব পড়তে পারে?
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে—
- খোলা মাঠে বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়বে
- দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে
- ভারী বৃষ্টির সময় দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে
- যানজট ও যান চলাচলে সমস্যা হতে পারে
- নিচু এলাকা ও আন্ডারপাসে জল জমার সম্ভাবনা
- কৃষিজমি ও উদ্যান ফসলের ক্ষতি হতে পারে
- ঝোড়ো হাওয়ায় গাছের ডাল ভেঙে পড়া বা কাঁচা বাড়ির ক্ষতি হতে পারে
কী পরামর্শ?
- বজ্রবিদ্যুতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন
- গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা দুর্বল কাঠামোর নিচে আশ্রয় নেবেন না
- জলাশয়ের কাছাকাছি যাওয়া এড়িয়ে চলুন
- প্রয়োজন ছাড়া খোলা মাঠে অবস্থান করবেন না
- স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলুন
