দুর্গাপুজোর মুখে বৃষ্টির ভয়ঙ্কর রূপ । আগামী দিনেও বৃষ্টির পূর্বাভাস । তাহলে কি অসুররূপী বৃষ্টি এবারের পুজোর দফারফা করে দেবে? এখন এই আশঙ্কাতেই কাটছে দিন। এরই মধ্যে দুর্যোগের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করেই , কোমর জল পেরিয়ে মঙ্গলের সন্ধেয় প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে দেখা গেল ভিড়। যুক্তি একটাই, পুজো কি আর বছরে বার বার আসে ! 

সোমবার রাতের ভয়ঙ্কর বৃষ্টিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ।  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চলে গেল ১১ টা প্রাণ। দেবীপক্ষে কত ঘর হল শূন্য। কত মানুষ হারাল সম্বল।  এরইমধ্য়ে ফের দুর্যোগের ভ্রকুটি। ফের ভাসাতে পারে বৃষ্টি। কারণ বৃহস্পতিবার থেকেই কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ফের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত ও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা দিল আলিপুর আবহাওয়া অফিস। শনিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে কলকাতায়।  

শনিবার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা কোথায় কোথায়   

আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানালেন, বুধবার, পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায়। শনিবার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে বাঁকুড়া পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হবে কলকাতাতেও। 

পুজোর আগে আবার বৃষ্টি 

আজ বুধবার, দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি/বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার এক বা দুটি জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, দক্ষিণবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এক বা দুটি জায়গায় বজ্রপাত, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়া বইবার সম্ভাবনা রয়েছে।    বৃহস্পতি ও শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এক বা দুটি জায়গায় বজ্রপাত, দমকা হাওয়া বইবার সম্ভাবনা রয়েছে। পঞ্চমী , অর্থাৎ শনিবারে  মাঝারি বৃষ্টি/বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। 

অতীতের স্মৃতি 

আজ থেকে প্রায় ৪৭ বছর আগে,  ১৯৭৮ সালের এই সেপ্টেম্বর মাসেই ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় প্রায় ৩৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল।তার জেরে ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের একটা বড় অংশে । ১৯৮৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরে ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় প্রায় ২৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। ২০০৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় হওয়া বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৭৪.৪ মিলিমিটার। আর সোমবার রাতে বৃষ্টির পরিমাণ ২৫১.৪ মিলিমিটার।