পাণ্ডবেশ্বর: কাউন্টিং এজেন্টদের মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। সঠিকভাবে গণনা হয়নি। ভোটে হারের পরই একাধিক অভিযোগ তুলে পোস্ট করেন পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী। সেই দাবি খারিজ করে দিলেন দলেরই নেতারা। পাণ্ডবেশ্বরের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলছেন, 'আমাদের কাউন্টিং এজেন্টদের বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে। এতে পরিপূর্ণ ভাবে জনমত প্রতিফলিত হয়নি।' যদিও পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি কিরীটী মুখোপাধ্যায় বলে দিচ্ছেন যে কাউন্টিংয়ে কোনও দুর্নীতি হয়নি।

Continues below advertisement

বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে কার্যত আড়াআড়ি বিভাজন। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর আত্মীয়দের সম্পত্তিতে কলকাতা পুরসভার নোটিস নিয়ে দায় ঝেড়েছেন কলকাতার মেয়র থেকে তৃণমূলের মুখপাত্র। ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী। দলের ঘোষিত কর্মসূচি থেকে দলনেত্রীর ডাকা বৈঠকে গরহাজির থাকছেন তৃণমূলের একাধিক নেতা!

এবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরেও তৃণমূলের অন্দরে ডামাডোল। ভোটে হার নিয়ে তৃণমূলের প্রার্থীর দাবি খারিজ করে দিলেন দলেরই নেতারা। পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে ১ হাজার ৩৯৪ ভোটে হারিয়েছেন বিজেপির জিতেন্দ্র তিওয়ারি। মঙ্গলবার ফেসবুকে এই ভিডিও পোস্ট করে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী একাধিক অভিযোগ করেন।

Continues below advertisement

পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থীর দাবি খারিজ করে পশ্চিম বর্ধমানের জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সুজিত মুখোপাধ্যায় বলেন, 'আমি পরিষ্কার ভাষায় বলতে পারি কোনও কারচুপি হয়নি। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী হেরে যাওয়ার পর মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। আমি মাননীয় নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে বলতে চাই যে, আজকের দিনে তৃণমূল করার জন্য যারা ঘরছাড়া, যারা অ্যারেস্ট হচ্ছে তাদের পাশে আপনি থাকছেন না কেন? তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না কেন? আপনি নিজেকে বাঁচানোর আজকে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন।' কিরীটী মুখোপাধ্যায় বলছেন, 'কাউন্টিংয়ে কোনও দুর্নীতি হয়নি। আমরা যা দেখেছি, লাস্ট অবধি EVM আমরা গুনেছি। যত আপনি ভিডিও বার্তা দেবেন, তত বেশি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা অসুবিধায় থাকবে। আসল ব্যাপার হচ্ছে ১২টার পর বিজেপি হয়ে যাওয়া, সেইসব কর্মীর দ্বারাই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা অত্যাচারিত।' ভোটে হারার পর মাত্র ২ সপ্তাহেই এই অবস্থা! এর পর কী হবে? তা নিয়েই নানা মহলে চলছে জল্পনা।

এদিকে, ১০ পয়সাও তোলাবাজি করা চলবে না। তোলাবাজি করলে তাঁকে জেলে যেতে হবে। হাবড়া পুরসভায় কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল। আগামীদিনে পুরসভা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে ব্যাপারে একটি যৌথ কমিটি কমিটি করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।