কলকাতা : তৃণমূলের তহবিল নিয়ে বিতর্কের মধ্য়েই অ্য়াকশন মুডে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট। তদন্তের স্বার্থে, আগেই HDFC ব্য়াঙ্কে তৃণমূলের নামে থাকা ৩ টে অ্য়াকাউন্ট 'ডেবিট ফ্রিজ' করে দেয় পুলিশ। মঙ্গলবার লেনদেন সম্পর্কিত তথ্য খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামে ED. ৫ জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায়। আর তারপরই সেই ৩ অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে মোট ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। অন্য়দিকে, সম্প্রতি তহবিল-তদন্তে পুলিশের কাছে বয়ান দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তাঁর শিবিরে থাকা ৫ জন বিধায়ক।
'কালীঘাট তৃণমূল'-এর ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই 'ডেবিট ফ্রিজ' করেছে পুলিশ। এবার ED-র নজরেও সেই অ্যাকাউন্ট। ইতিমধ্যেই ECIR দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। ED-র আতসকাচের তলায় কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। যাদের রেজিস্টার্ড অফিস ধর্মতলার কাছে রাধাবাজার স্ট্রিটে। ED সূত্রে জানা যাচ্ছে, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত মামলায় এই সংস্থার কী ভূমিকা রয়েছে, সেটা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি চলছে। মূলত এই সংস্থার মাধ্যমে তৃণমূলের নেতারা ভোটের আগে ও বিভিন্ন সময় তারা বেশ কিছু জায়গায় বুকিং করতেন এবং এই সংস্থার মাধ্যমে চপারও বুকিং হত। এবার এবিপি আনন্দের মুখোমুখি হয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন সম্পর্কে মুখ খুলেও চুপ থাকলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস। তিনি শুধু জানান জানান, 'তৃণমূলেই আছি'।
সাংবাদিক: এই ফান্ডের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে একাধিক যে নেতা বিভিন্ন জায়গায় ট্রাভেল করত, হোটেল বুকিং, প্রাইভেট টিকিট বুকিং সমস্ত কিছু করা হত।
উত্তর - সেটা আমি কী করে বলব, না দেখে। না জেনে কিছু মন্তব্য করব না।
সাংবাদিক: আপনিও তো একটা পদেও ছিলেন। ফান্ডটা দেখতেন। তাহলে আপনি এটুকু শুধু বলুন যে কী কারণে আপনি ব্য়াঙ্কে জানান।
উত্তর - আমি এটার বিষয়ে পরে মন্তব্য করব। তৃণমূলেই ছিলাম। তৃণমূলেই আছি। তৃণমূলে থাকব।
সাংবাদিক: কালীঘাট তৃণমূল না ঋতব্রত তৃণমূল?
উত্তর - কোনও উত্তর দিলেন না। শুধু হাসি। আরও পড়ুন - "যাবতীয় লেনদেনই অত্যন্ত সন্দেহজনক", তৃণমূলের ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করল ইডি
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি লিখে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। দলের অ্যাকাউন্টে সব লেনদেন বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। অরূপ বিশ্বাস, তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ব্যাঙ্কের কাছে আবেদন করেছিলেন, দলের মধ্যে ব্যাপক গন্ডগোল চলছে। সাংসদদের অনেকে দল ছেড়ে দিয়েছেন। আবার বিধায়কদের মধ্যে অনেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বিবাদ চলছে। ফলে কে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দলের অফিসে তাঁর সই করে রাখা ব্যাঙ্ক চেক গুলির অপব্যবহার হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
