কলকাতা : আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, সেই মত বিধানসভায় পাস হয়ে গেল পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল। প্রধান, উপপ্রধানদের ক্ষমতা কমিয়ে সংশোধনী বিল পাস করে দিল বিজেপি সরকার। পঞ্চায়েতের টাকা খরচে এবার এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের সই বাধ্যতামূলক। পঞ্চায়েতে সংশোধনীর পক্ষে পড়ল ১৬৯টি ভোট, বিপক্ষে ১৩। অনুপস্থিত ছিলেন ৩২ জন। ১৩ টি বিপক্ষের ভোটের মধ্যে মধ্যে ৯ জন কালীঘাটের বিধায়ক। বাকি ৪ টির মধ্যে নওশাদ, সিপিএম, আর কংগ্রেসের ২ ছিলেন। বিপুল ভোট পেয়ে  শনিবার পাস হয়ে গেল পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল। গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ যাতে কোনওভাবেই থমকে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই সরকারের এই বড় পদক্ষেপ। কেন এই বিল?                               

Continues below advertisement

বিলে পঞ্চায়েত পরিচালনা, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এবং পরিষেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একাধিক সংশোধনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পঞ্চায়েত তহবিল থেকে খরচের ক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং চেকে এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ও সচিব যৌথভাবে স্বাক্ষর করবেন। পাশাপাশি, প্রতি মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রধানের কাছে এবং বিডিও-র কাছে জমা দেওয়ার দায়িত্বও এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের ওপর দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আরও পড়ুন - CAG-এর ২৮টি রিপোর্ট পেশ অর্থমন্ত্রীর, কী আছে এতে ? তৃণমূলের কোন কোন দুর্নীতি ফাঁস হবে ?

কী আছে এই বিলে ?                             

Continues below advertisement

বিলে বলা হয়েছে, যদি কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপপ্রধান ১৫ দিনের বেশি সময় অনুপস্থিত থাকেন এবং নির্বাচিত সদস্যদের কেউ দায়িত্ব নিতে রাজি না হন, তবে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ একজন এক্সটেনশন অফিসার বা তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার আধিকারিককে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করতে পারবেন। ওই সময়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের সমস্ত ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রশাসকই পালন করবেন। প্রধান ও উপপ্রধানের অনুপস্থিতিতে টানা ২ মাস গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈঠক না হলে, সংশ্লিষ্ট বিডিও-র অনুমতি নিয়ে পঞ্চায়েতের সচিব বৈঠক ডাকতে পারবেন। বৈঠকে এক্সটেনশন অফিসার এবং এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া, গ্রাম সভার সভাপতিত্বের ক্ষেত্রেও সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রধান, উপপ্রধান বা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অনুপস্থিত থাকলে, প্রশাসক উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সদস্যকে সভার সভাপতিত্বের জন্য মনোনীত করতে পারবেন।