কলকাতা : ভোটে ভরাডুবির পর কালীঘাট তৃণমূলে যেন ভাটা শুরু হয়েছে। একের পর এক হেভিওয়েটরা দল ছাড়ছেন। পদত্যাগ করছেন কাউন্সিলররা। ছোটো থেকে বড় নেতা, সবাই এখন উল্টো সুর গাইতে শুরু করেছেন। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব নিকট ছিলেন, তারাই একে একে হাত ছেড়েছেন। সব মিলিয়ে যত দিন এগোচ্ছে ততই যেন রাজনৈতিকভাবে আরও দুর্বল হচ্ছে কালীঘাট তৃণমূল। 

Continues below advertisement

দল থেকে পদত্যাগ করার পর সবার মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আইপ্যাকের নাম। শুক্রবার শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র পদ ছেড়েছেন গৌতম দেব। আর তারপরেই আক্ষেপের সুর শোনা গেল একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিচেন ক্যাবিনেটের সদস্যের গলায়। ভোটে হারার পর, আইপ্যাকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনিও। অন্যদিকে, বীরভূম থেকে মুর্শিদাবাদ, একের পর এক তৃণমূল পরিচালিত পুরসভায় লেগেছে পদত্যাগের হিড়িক।

মন্ত্রী, মেয়র থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব, এতদিন সবটাই সামলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত গৌতম দেব।ভোটে ভরাডুবির পর, 'কালীঘাট তৃণমূলে' যখন ভাটার টান, তখন শুক্রবার শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র পদও ছেড়েছেন তিনি। আর তারপরেই আক্ষেপের সুর শোনা গেল তাঁর মুখ থেকে। তিনি জানান, '' আমি উপেক্ষিত মনে করছিলাম নিজেকে। প্রত্যেকটা কাজ হচ্ছিল আমাকে বাইপাস করে।'' ''শেষ ১৫ বছরে আমি বেশিরভাগ প্রশাসনিক কাজ করেছি। করতে গিয়ে দলের ভিতরে বিস্তর বাধার সম্মুখীন হয়েছি। সরকারের লোক আমাকে বাধা দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কতক্ষণ আমাকে রক্ষা করবেন?''

Continues below advertisement

ভোটে ভরাডুবির পর বর্তমানে তৃণমূলে চলছে ভাঙনের পর্ব। ক্ষমতায় থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশেপাশে সর্বক্ষণ যাদের দেখা যেত, তাঁরাই কার্যত আজ  তৃণমূলনেত্রীর সঙ্গ ছেড়েছেন। অনেকে বিদ্রোহী হয়েছেন। কেউ কেউ নাম লিখিয়েছেন অন্য দলে। আবার কেউ দলকেই জানিয়েছেন বিদায়। যারাই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন, তারাই আজ বহু দূরে। 

কারা কারা ছাড়লেন মমতার সঙ্গ?

১. ববি হাকিম  ২. অরূপ চক্রবর্তী  ৩. মালা রায় ৪. সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়৫. জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৬. ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৭. সন্দীপন সাহা ৮. শিউলি সাহা ৯. সাবিনা ইয়াসমিন ১০. অরূপ রায় ১১. রথীন ঘোষ ১২. জাভেদ খান ১৩. সমীর পাঁজা ১৪. গোলাম রাব্বানি ১৫. ইমানি বিশ্বাস ১৬. হামিদুর রহমান ১৭. দীনেন রায় ১৮. আখেরুজ্জামান ১৯. চন্দ্রনাথ সিংহা ২০. রিয়াজ হোসেন  ২১. গুলশান মল্লিক ২২. পিয়া পাল ২৩. সুরজিৎ মিত্র ২৪. সমর মুখোপাধ্যায় ২৫. ঊষারানি মণ্ডল ২৬. আব্দুল আজিজ ২৭. প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও বহু বিধায়ক। 

কোন কোন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে NDA জোটে যোগ দিলেন ?

১. কাকলি ঘোষ দস্তিদার   ২ শতাব্দী রায়   ৩ বাপি হালদার   ৪ শর্মিলা সরকার    ৫ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়    ৬ জগদীশ বর্মা বাসুনিয়া৭ অসিত মাল     ৮ অরূপ চক্রবর্তী    ৯ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়    ১০ সায়নী ঘোষ       ১১ খলিলুর রহমান          ১২ আবু তাহের খান১৩ ইউসুফ পাঠান       ১৪ মিতালি বাগ১৫ মালা রায়১৬ কালীপদ সোরেন১৭ দেব (দীপক অধিকারী)     ১৮ জুন মালিয়া১৯ পার্থ ভৌমিক

হারের পর, তৃণমূলের একাধিক পরাজিত প্রার্থী ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন আইপ্যাকের বিরুদ্ধে। ভোটে হারের পর কলকাতা, বিধানগর, চন্দননগর, শিলিগুড়ির মতো পুরসভার মেয়ররা পদত্যাগ করেছেন। গত এক মাসে, ইস্তফার হিড়িক দেখা গেছে তৃণমূল পরিচালিত একাধিক পুরসভাতেও। সেই ধারা এখনও চলছে। শুক্রবার পদত্যাগ করেন তৃণমূল পরিচালিত বোলপুর পুরসভার চেয়ারপার্সন পর্ণা ঘোষ। আর এদিন পদত্যাগ করলেন সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। মুর্শিদাবাদ জেলাতেও গত কয়েকদিনে পদত্যাগ করেছেন তৃণমূল পরিচালিত চারটি পুরসভার চেয়ারম্যান। ১০ জুন পদত্যাগ করেন বেলডাঙা পুরসভার চেয়ারপার্সন অনুরাধা হাজরা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বহরমপুরের পুরপ্রধান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় এবং মুর্শিদাবাদ পুরসভার চেয়ারম্যান ইন্দ্রজিৎ ধর পদত্যাগ করেন। শুক্রবার পদত্যাগ করেন কান্দির পুরপ্রধান জয়দেব ঘটক।