কলকাতা: ২২ এপ্রিল। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ ভ্যালিতে সেদিন আর পাঁচটা দিনের মতোই জন সমাগম ছিল। সময়টা ছিল দুপুর নাগাদ। শীতের আমেজে সবাই তখন রোদ গায়ে মাখছেন, কেউ বা ক্যামেরাবন্দি করে রাখতে চাইছিলেন নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য। কেউ আবার পছন্দের খাবারটা চেখে দেখে নিতে চাইছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে বদলে গিয়েছিল সেই ছবিটা। চিৎকার, আতঙ্ক, রক্ত... কয়েক মিনিটের মধ্যে বৈসরণ ভ্যালি যে আতঙ্কপুরী। কাশ্মীরের বৈসরণে জঙ্গি হামলায় ঝরে গিয়েছে ২৬টা তাজা প্রাণ। আর এই হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। তবে শুধুই কি পাকিস্তানের জঙ্গিরা দায়ী? এতজন জঙ্গি কীভাবে রেইকি করে নির্ভুলভাবে বেছে নিয়েছিল বৈসরণ ভ্যালিকে? এত কম সময়ের মধ্যে অপারেশন চালিয়ে কীভাবে সুচারুভাবে গা ঢাকা দিল তারা? গোয়েন্দারা আন্দাজ করছে, এই হামলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের মদত না পেলে, পর্যটকে ভরা এলাকায় এত নিখুঁত অপারেশন চালানো কার্যত অসম্ভব জঙ্গিদের পক্ষে। 

আর এবার, NIA স্ক্যানারে বেশ কয়েকটি দোকান। বৈসরণে যেহেতু পর্যটকদের আগমন খুব বেশি, সেই কারণে জীবিকা খুঁজতেই সেখানে দোকান খুলে বসেছিলেন অনেক স্থানীয়রাই। পোশাক থেকে শুরু করে খাবার, বিভিন্ন জিনিস বিক্রির দোকান ছিল বৈসরণে। কিন্তু তদন্তে দেখা যাচ্ছে, হামলার দিন বৈসরণ ভ্যালিতে বেশ কয়েকটি দোকান বন্ধ ছিল। কী কারণে দোকান বন্ধ রাখা হয়েছিল? ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে NIA-র তরফ থেকে। তদন্তে জানা যাচ্ছে, জঙ্গি হামলার ঠিক ১৫দিন আগে নতুন ২টি দোকান খুলেছিল। নতুন ২টি দোকানের মধ্যে একটি পোশাক ও আরেকটি খাবারের দোকান। আশ্চর্যজনকভাবে হামলার দিন নতুন ২টি দোকানও বন্ধ ছিল। 

গোয়েন্দাদের সন্দেহ, স্থানীয়রা অনেকেই যুক্ত ছিলেন এই হামলার সঙ্গে। ওই দুটি দোকানের দোকানিরা কি তবে আগে থেকেই জানতে পেরেছিলেন হামলার কথা? সেই কারণেই হামলার দিনে বন্ধ রেখেছিলেন দোকান? তা না হলে বৈসরণ ভ্যালি যখন পর্যটক পূর্ণ, তখন কেন বন্ধ থাকবে ওই দুটি দোকান? সেটাই এখন ভাবাচ্ছে NIA-কে। শুধু দোকানদার নয়, একাধিক টাট্টু চালককেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে NIA। প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সেই জিপ লাইনার চালককেও যিনি ঠিক হামলার মুহূর্তে 'আল্লা হো আকবর' বলেছিলেন। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, এই হামলার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের উপযুক্ত শাস্তি হবে।