কলকাতা: আগামীদিনে উত্তরবঙ্গেও ছুটবে মেট্রো। বাজেটে তেমনই প্রস্তাব রাখলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। জানালেন, শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ির মধ্যে মেট্রো চালুর সম্ভাবনা যাচাই করতে টেকনো-ইকোনমিক স্টাডি করা হবে। বিমানবন্দর তৈরি হবে মালদা, বালুরঘাটে।    

Continues below advertisement

রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থায় বড় পদক্ষেপ। এবার কলকাতার গণ্ডি পেরিয়ে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি এবং পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চলেও মেট্রো রেলের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে এই ঘোষণা করা হয়েছে।

কলকাতার পর নতুন মেট্রো শহর?

Continues below advertisement

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে একমাত্র কলকাতাতেই মেট্রো পরিষেবা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রথমবারের মতো রাজ্যের অন্য শহরগুলিও মেট্রো মানচিত্রে জায়গা করে নিতে পারে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হওয়ায় এবং দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এই দুই জায়গায় আধুনিক গণপরিবহণের চাহিদা দীর্ঘদিনের।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?

শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক কেন্দ্র। অন্যদিকে, দুর্গাপুর-আসানসোল পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় শিল্পাঞ্চল। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কাজ, ব্যবসা, শিক্ষা এবং চিকিৎসার কারণে এই দুই অঞ্চলে যাতায়াত করেন। মেট্রো চালু হলে—

যানজট কমবে,যাতায়াতের সময় বাঁচবে,শিল্প ও বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে,পর্যটন এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়বে।

উত্তরবঙ্গ মানেই চা। ভোটের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও যে চা শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে বারবার বার্তা দিয়ে গেছেন, এবার রাজ্য বাজেটেও তার ছাপ থাকল। রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত প্রস্তাব রাখলেন, চা শ্রমিকদের কল্যাণমূলক প্রকল্প তত্ত্বাবধানের জন্য তৈরি হবে 'চা শ্রমিক উন্নয়ন বোর্ড', চা বাগানের ভিতরের রাস্তা ও পরিকাঠামো উন্নত করা হবে। শিলিগুড়িতে তৈরি হবে কমন টি প্রসেসিং সেন্টার। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হবে টি প্রসেসিং জোন।

আরও পড়ুন, খাবার জোটেনি, টাকা ছিল না, ছিল জেদ! রিকশাচালকের ছেলের দারিদ্র্যকে হারিয়ে UPSC-তে বাজিমাত

ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি পর্যন্ত হাইস্পিড রেল করিডর পরিকল্পনার ঘোষণা করেছেন রেলমন্ত্রী। আর রাজ্য বাজেটে প্রস্তাব রাখা হল, শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ির মধ্যে মেট্রো সংযোগ চালু করার লক্ষে প্রকল্পের সম্ভাবনা যাচাই করতে টেকনো-ইকোনমিক স্টাডি করা হবে। উত্তরবঙ্গের রাস্তাঘাট-সহ অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও অনেক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে রাজ্য বাজেটে।