কলকাতা: উৎসবের মরশুমের আগেই হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম। কলকাতায় গত এক সপ্তাহে চিনির দাম কেজিতে বেড়েছে ১২ টাকার বেশি। গত তিন মাসে চিনির দাম বেড়েছে ২০ টাকার বেশি। মহার্ঘ্য চিনি, বহু খাদ্যসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা, দাম বাড়তে পারে মিষ্টান্নর জোগানে। টান পড়ায় সরকারের তরফে চিনি মজুতের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা চিনির পরিমাণ বাড়ানোর নির্দেশ কেন্দ্রীয় সরকারের। আখ থেকে চিনি তৈরিতে জোর না দিয়ে ইথানলে ফোকাস করাতেই কি এই পরিস্থিতি? সরকারের সমালোচনায় বিরোধীরা, বাড়ছে ডাল, পেঁয়াজের দামও।

Continues below advertisement

হোলসেন মার্কেটগুলোতে বলা হচ্ছে যে গত তিন মাস আগে যেখানে কিলোপ্রতি চিনি ৪৫-৪৬ টাকায় কেনা হত, সেখানে গত সপ্তাহ পর্য়ন্ত ৫২-৫৩ টাকা ছিল। সেখানে গত কাল থেকে একলাফে ৬৫-৬৬ টাকা প্রতি কেজি হয়েছে। তার ফলে খুচরো বাজারে দাম ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে যাচ্ছে। মোটা দানার চিনি প্রায় ৬৫ টাকা করে হোলসেল মার্কেটে দাম যাচ্ছে। যদি না বাইরে থেকে আমদানি করা চিনি বাজারে আসছে, তাহলে দাম ৭০ টাকা প্রতি কেজিতে পৌঁছতে পারে। এক সপ্তাহে ১৫ টাকা বেড়ে গিয়েছে। 

ওয়েস্ট বেঙ্গল ভেন্ডর অ্য়াসোসিয়েশনের সভাপতি চন্দন চক্রবর্তী বলছেন, 'গত এক সপ্তাহে দাম ছিল ৫৩ টাকা করে। গত কাল পর্যন্ত ৬৪ টাকা হয়েছে। পুরোটাই কালোবাজারি হচ্ছে। চিনির ফ্য়াক্টরি পুরো শেষ হয়ে গিয়েছে। আজকাল তো বেশিরভাগ রিফাইন দিয়ে মিষ্টির দোকানে কাজ হচ্ছে।' পোস্তার এক চিনি ব্যবসায়ী বলছেন, 'মিলে চিনির স্টকও কমে গিয়েছে এখন। আগে যখন কম দাম ছিল, তখন স্টক ছিল প্রচুর। এখন অনেক কমে গিয়েছে।' অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে যে চিনি ব্যবসায়ীরাও সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। চিনির দাম বাড়লে জোগানে টান পড়বে। তাই সরকারের তরফে ইতিমধ্য়েই জানানো হয়েছে যে চিনি মজুত করার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

Continues below advertisement

এই মুহূর্তে চিনির জোগান যথেষ্ট কম রয়েছে। মধ্যবিত্ত বাঙালির মাথায় চিন্তার ভাঁজ দেখা যাচ্ছে ইতিমধ্য়েই। এমনকী বিক্রেতারাও বলছেন যে বিক্রি কিছুটা হলেও কমেছে দাম এভাবে বাড়তে থাকায়। এই দাম কবে কমবে তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইতিবাচক কিছু শোনা যাচ্ছে না। আমদানি করা হচ্ছে, যা বাজারে আসতেও সময় লাগবে বলে শোনা যাচ্ছে।