কলকাতা: গ্রেফতার করা হল ইউটিউবার শমীক অধিকারী। বান্ধবীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ। তাঁকে গ্রেফতার করেছে বেহালা থানার পুলিশ। যদিও ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি ইউটিউবারের বাবার। শমীক 'ননসেন' নামে পরিচিত। বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। (Shamik Adhikary)
একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে শমীকের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতার দাবি, শমীক তাঁর পূর্ব পরিচিত। ঘনিষ্ঠ পরিচয়ছিল তাঁদের। ফ্ল্যাটে তাঁকে তালাবন্ধ করে রেখেছিলেন শমীক। শুধু মানসিক নির্যাতনই নয়, মারধর করা হয় তাঁকে। যৌন নির্যাতনও চালানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ওই নির্যাতন চলছিল তাঁর উপর। বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শমীককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। (Shamik Adhikary Arrested)
পুলিশকে নির্যাতিতা জানিয়েছেন, বেহালার একটি আবাসনে তাঁকে আটকে রাখেন শমীক। প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে অত্যাচার চলে তাঁর উপর। মারধরের পাশাপাশি যৌন নির্যাতনও চলে। তাঁকে ভয় দেখানো হয়, হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা তরুণী। ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। শমীকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৭ (২), ৭, ৪ এবং ৩৫১ (২) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
মজার ভিডিও বানানোর জন্যই পরিচিত শমীক। সম্প্রতি 'বাটন' নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিতে অভিনয়ও করেন। ওই ছবিতে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকে তিনি আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। আর জি কর ধর্ষণ মামলা থেকে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয় ছবিতে। রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তা নেই বলেও দেখানো হয়। যদিও শাসক শিবিরের সমর্থকরা পাল্টা আক্রমণ করেন শমীককে। একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা করে দিতে, তাদের টাকাতেই ছবিটি তৈরি করা হয়েছে বলে তোলা হয় অভিযোগ।
শমীক গ্রেফতার হতেই প্রতিবাদে সরব হন বিজেপি-র আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। তৃণমূল সাংসদ দেবের সঙ্গে শমীকের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, 'মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ একটি স্বৈরতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। বৈধ সমালোচনার জবাবে সংশোধনের পরিবর্তে ভুয়ো, উদ্দেশ্যপ্রণেদিত এফআইআর দায়ের করা হয়, ভুয়ো মামলা দায়ের করা হয়...প্রথমে সায়ক...এখন Nonsane....'.
এর পাল্টা মালব্যকে আক্রমণ করেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষও। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, 'ইনি সেই ব্যক্তি, যিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিশানা করে একটি ভিডিও বানিয়েছিলেন, দাবি করেছিলেন এখানে মেয়েরা নিরাপদ নয়। তৃণমূলকে ভোট না িতে আহ্বান জানান। আর জি করের সময় বিজেপি সমর্থক মদতপুষ্টরাই কুৎসা ছড়াতে নেমেছিল। এখন মুখোশ খুলে যাচ্ছে'।
বিজেপি-র আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যকেও একহাত নেন কুণাল। তিনি লেখেন, 'ধর্ষক নিয়োগকারী অমিত মালব্য ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ডিফেন্ড করেছেন। উনি বলেছেন, মেয়েটি মিথ্যে বলছে। কারণ কেউ ঘটনার কথা শোনেনি। কেন সে আগে কথা বলেনি? ঘটনাটি ২ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘটেছে, মেয়েটিকে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল। এফআইআর হয়েছে ৪ ফেব্রুয়ারি'।
