রাজীব চৌধুরী, শিবাশিস মৌলিক ও পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা: বেলডাঙায় ২ দিন ধরে তাণ্ডব চলার পর, অবশেষে, মুর্শিদাবাদের মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি গেলেন, তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান। কিন্তু এত দেরীতে কেন? উঠল সেই প্রশ্নও। যা নিয়ে শুরু হয়ছে রাজনৈতিক তরজা।
অবশেষে বেলডাঙায় এলেন তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান। ২ দিন ধরে চলা নৈরাজ্যের ৪৮ ঘণ্টা পর! ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিককে খুন ও মারধরের অভিযোগে, প্রতিবাদের নামে শুক্র ও শনিবার, তাণ্ডব চলেছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়...দু-দিন ধরে অবাধ গুন্ডামি... রাস্তা অবরোধ... রেল অবরোধ... ভাঙচুর... সংবাদমাধ্যমের উপর আক্রমণ...কিছুই বাদ যায়নি। কিন্তু, এই দু-দিনের মধ্যে দেখা যায়নি এলাকার তৃণমূল সাংসদ ইউসূফ পাঠানকে। ফলে ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলছেন, 'একটা পরিযায়ী সাংসদ পেল মুর্শিদাবাদের মানুষ। সেই পরিযায়ী সাংসদ, আজকে তার এখনও অবধি কোনও বিবৃতি পাইনি'। আরেক বাসিন্দাকে বলতে শোনা গেল, 'আমরা মোটামুটি ওকে ভোটের বাজারে দেখেছি। আজ পর্যন্ত আমাদের আর চোখে পড়ে না।' অবশেষে ২ দিন পর দেখা মিলল, বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদের। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের মহেশপুরের বাড়িতে গেলেন ইউসুফ পাঠান। তৃণমূল সাংসদ দাবি করলেন, তিনি নাকি এলাকাতেই ছিলেন!
সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে যখন তৃণমূল সাংসদকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি এত দেরি করে এলেন কেন, তখন ইউসুফ পাঠান উত্তর দেন, 'আমি এখানেই ছিলাম। আমার মনে হয়, আপনি দেরিতে পৌঁছেছেন। আমি সবসময়ই এখানে ছিলাম। আমাদের জনপ্রতিনিধি, সাংসদরা মাঠে নেমে কাজ করে। সবকিছু ঠিক আছে এখানে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছেন। ওঁর সন্তানের পড়াশোনার দেখভালও করা হবে।'
প্রবল সমালোচনার মুখে রবিবার মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে গিয়ে, পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য় তুলে দেন তৃণমূল সাংসদ ইউসূফ পাঠান। সঙ্গে ছিলেন বেলডাঙার তৃণমূল বিধায়ক হাসানউজ্জামান। ইউসুফ পাঠানের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, 'আপনার নির্বাচনী কেন্দ্রে বারবার এরকম ঘটনা। আপনি কেন আসেন না?' ইউসুফ পাঠান উত্তর দেন, 'আমার মনে হয় আপনাদের ভুল বোঝানো হয়েছে। আপনাদেরও ভুলভাবে ব্যবহার করে, মানুষের মধ্যে ভুল ধারনা তৈরি করছে। আমি এখানেই আছি। এখানকার উন্নয়নের জন্য সবসময় আছি। সবসময় কাজ করে চলেছি।'
বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদকে যখন গত দুদিন দেখা যায়নি, তখন সক্রিয় ছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী! তিনি মৃতের বাড়িতে যান! পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন! যার ফলে ইউসুফ পাঠানের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরাল হয়! বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ হলেও, আদতে, ভিন রাজ্য়ের বাসিন্দা ইউসুফ পাঠানের ভূমিকা নিয়ে এর আগেও বারবার নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।