জলপাইগুড়ি : 'বাংলার যুব সাথী' প্রকল্পে রেজিস্ট্রেশনের জন্য তৃণমূলের সহায়তা শিবিরে বিজেপি যুব মোর্চার সদস্যরা! সংগঠনের ছেলেরা বেকার ভাতার জন্য যাতে নির্বিঘ্নে ফর্ম পূরণ করতে পারেন, তা তদারকি করছেন বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান! এমনই ছবি ধরা পড়েছে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বটতলা এলাকায়। 'রাজ্যে চাকরি নেই, গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজোর মতোই এই বেকার ভাতা, সবাই কেন তা নেবে না?' সহায়তা শিবিরে উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক উঠতেই পাল্টা প্রশ্ন বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধানের। 'শুভেন্দু অধিকারী বেকার ভাতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেও, তাঁর দলের কর্মীরাই । নির্দেশ মানছেন না', কটাক্ষ তৃণমূলের।
আরও পড়ুন, হুমায়ুন কবীরের স্ত্রীকে নোটিস পাঠাল রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর, ৭ দিনের মধ্যে জবাব তলব
অপরদিকে পৃথক ছবি পূর্ব বর্ধমানে। রাজ্য সরকারের 'বাংলার যুব সাথী' প্রকল্পে ফর্ম পূরণের জন্য সহায়তা শিবির সিপিএমের! ভোটের মুখে এমনই ছবি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। কাটোয়া ২ নম্বর ব্লক অফিসের যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের সামনে চলছে সহায়তা শিবির। শিবিরে বেকার এবং ক্ষেতমজুরদের ফর্ম পূরণ করে দিচ্ছেন সিপিএম নেতাকর্মীরা। যদিও বিজেপির কটাক্ষ, রাজ্যে তৃণমূল ও সিপিএম একই। হকের টাকা, উপভোক্তাদের হয়রানি এড়াতেই তাঁদের এই স্বেচ্ছাশ্রম, দাবি সিপিএমের। এতেই প্রমাণিত মুখ্যমন্ত্রী সর্বস্তরের মানুষের স্বার্থে কাজ করছেন, বক্তব্য তৃণমূলের।
'যুব সাথী'র পশ্চিমবঙ্গের কর্মসংস্থান নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা।'যুব সাথী'র ভাতা নিতে কেন লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে উচ্চ শিক্ষিতদের? এই নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। লম্বা লাইন বুঝিয়ে দিচ্ছে রাজ্যের যুব সমাজ কত অসহায়। কটাক্ষ সুজন চক্রবর্তীর। মানুষ ভোটে এর জবাব দেবে বলে, মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি-সিপিএমের ক্ষমতা থাকলে বলুক, তাঁদের সমর্থকরা ভাতা নেবে না। পাল্টা চ্যালেঞ্জ কুণাল ঘোষের।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, মানুষ ভোটের বাক্সে এর জবাব দেবে। অপরদিকে, তৃণমূল বিধায়ক ও বিদ্য়ুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, কে সমালোচনা করল, তাতে কিছু আসে যায় না। বাংলার বেকারত্ব অত কম নেই। প্রায় ৪.৫% কমেছে। আগে নিজেদের, যারা কেন্দ্রীয় সরকার চালাচ্ছে, তাদেরটা ভাবতে বলুন। মমতা ব্য়ানার্জিকে নিয়ে ভাবতে হবে না। কিন্তু, কেন দেড় হাজার টাকার জন্য় এদের লাইনে দাঁড়াতে হল? এতে কি পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থানের অভাবটাই প্রকট হচ্ছে না? সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদের অনেকে।
প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন,৬ হাজার ৬৮৮ শিল্প এখান থেকে তাড়িয়েছে। যেরকম প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে বাণিজ্য সম্মেলনে, তাতে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ হওয়ার কথা ১৮ লক্ষ কোটি টাকা। পশ্চিমবঙ্গে কয়েক হাজার কোটি টাকাও বিনিয়োগ হয়নি। ফলে এখানে শিল্প বলে কিছু নেই। সেই অভাবের প্রতিফলন ঘটছে এই বেকার যুবকদের ভাতা দেওয়ার এই লাইনে। '
